15 February 2022, 9:45 PM
আবীর মো.মুমিত: স্বাস্থ্যসেবা খাতে সিলেটের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগলিক কারণে ভারতের সেভেন সিস্টারখ্যাত সাতটি রাজ্যে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা প্রদানের অনেক সুযোগ রয়েছে। এখন সিলেটসহ সারাদেশ থেকে অনেক মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতের মান উন্নত করা গেলে ভারতের সেভেন সিস্টার থেকে রোগীরা এ অঞ্চলে সেবা নিতে আসবেন
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের আখালিয়ায় বেসরকারি মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ক্যাথল্যাব এবং কার্ডিয়াক সেন্টার উদ্বোধন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে বিত্তবানদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি বিত্তহীনদের চিকিৎসার সুবিধা বাড়াতে হবে।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল ব্যাবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা.মতিউর রহমান।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা.এম এ আহবাবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবং প্রফেসর ডা.আখতারুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ভিসি প্রফেসর ডা.মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়,
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন,সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ,ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা.মো.আমিনুর রহমান লস্কর, সিলেট প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ইকবাল সিদ্দিকী,দৈনিক আলোকিত সিলেট এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু তালেব মুরাদ এবং অনলাইন প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মুহিত চৌধুরী,হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নগরীর আখালিয়ায় বেসরকারি মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ক্যাথল্যাব স্থাপন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। কিন্তু বিএনপিই দুমড়েমুচড়ে এই ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বিএনপি এই ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করেছিল। বেআইনি কাজ করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন আর সে সুযোগ নেই। পেছনের দরজা দিয়েও ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে কোন নাম প্রস্তাব না করার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বিএনপি এখন গণতন্ত্রের বুলি শোনাচ্ছে ।
তিনি বলেন, তাদের মুখে এমন এসব কথা খুবই দুঃখজনক। তারা সবসময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু সেই সুযোগ আর নেই। নির্বাচন করতে চাইলে তাদেরকে নির্বাচনের পথে আসতে হবে। তাদেরকে জনতার কাছে আসতে হবে। জনতাই হচ্ছে ভোটের মালিক, দেশের মালিক।’
ড.মোমেন বলেন স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন হবে। সেই কমিশনের মাধ্যমে যে নির্বাচন হবে, সেটা অবশ্যই স্বচ্ছ হবে।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন কমিশন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খোদ আমেরিকাতেই কোনো নির্বাচন কমিশন নেই। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেই নির্বাচন করে। আমরা এ দেশে নির্বাচন কমিশন করি, যাতে স্বচ্ছ নির্বাচন হয়। কারণ আমরা সবসময় গণতন্ত্র ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বিশ্বাসী।’
তিনি বলেন জিয়াউর রহমানের সময়কার ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোটের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা যখন ক্ষমতায় আসলেন, তখন ইয়েস নট ভোট দিলেন। ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালনকারীদের বলে দিলেন যাতে সবাই ইয়েস ভোট দেয়। এতে ৯৮ শতাংশ ভোট পড়ে ইয়েস-এ। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পরে তা কমিয়ে ৮৮ শতাংশ করা হয়। বিএনপি এভাবেই সবসময় পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং আসার চেষ্টা করেছে।