শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

দিরাইয়ে প্রান্ত দাস হত্যা মামলার আসামির বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : এপ্রিল ৪, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

দিরাই প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আলোচিত প্রান্ত দাস হত্যা মামলার প্রধান আসামি চান মিয়াকে ‘এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের বাউসী গ্রামে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

এসময় অংশগ্রহণকারীরা চান মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।বক্তারা বলেন, চান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত। তার ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারা জানান, চান মিয়ার বাউসী গ্রামে নিজস্ব কোনো জমি নেই।২০১৭ সালের দিকে কামিনী দাসের পুকুরে পাহারাদার হিসেবে কাজ নেওয়ার পর তিনি সেখানে বসবাস শুরু করেন।বক্তাদের দাবি, অতীতেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে চান মিয়াকে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল।গত বছরের ২৬ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাউসী গ্রামে প্রান্ত দাস হত্যা সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় চান মিয়া ও তার ছেলে শাকিলসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পান।অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বের হয়ে চান মিয়া পুনরায় কামিনী দাসের জমিতে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করছেন।এ বিষয়ে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা অমান্য করে গভীর রাতে টিনের ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়।ভুক্তভোগী কামিনী দাস অভিযোগ করেন, রাতে আমার জমিতে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সেখানে গেলে চান মিয়া রামদা হাতে আমাকে হুমকি দেয়। সে বলে, একটি খুন করেছি, প্রয়োজনে আরও করব।জায়গা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার পরিবারের ক্ষতি করে দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, চান মিয়া এলাকায় গরু-ছাগল চুরি, নিরীহ মানুষকে মারধর এবং নারীদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনায় জড়িত।তার কারণে গ্রামবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্থায়ীভাবে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুন