৪ মে ২০২৬, ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
গোলজার আহমদ হেলাল
সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমুহে মিডিয়া কাভারেজ করতে সাংবাদিকদের পাস কার্ড সংগ্রহের জন্য বিগত ২৯ এপ্রিল(বুধবার) দুপুরে আমাদেরকে তালিকা দিতে বলা হয়।এসএসএফ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ সভায় আলোচনা শেষে (কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়।আঞ্চলিক তথ্য অফিসের একজন কর্মকর্তা এবিষয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা আমাদেরকে অবহিত করেন।অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিআইডি,সিলেট আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তালিকা সংগ্রহ করেন।আমরা যথারীতি ৩০ এপ্রিল পিআইডি’র কাছে তালিকা দেই এবং ১মে পাসকার্ড দেয়া হবে একথা বলা হয়।এর আগে ২৮ এপ্রিল আমাদের নিকট থেকে প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটি ও সাধারণ সদস্যদের পূর্ণ তালিকা এডিএম সংগ্রহ করেন।
১মে আমাদের প্রেসক্লাবের দুই জন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সিটি এসবি তে যান।সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পিআইডির কাছে প্রেরণকৃত অনেকের নামই নাই।সিটিএসবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এডিএম এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।আমরা এডিএম এবং পিআইডির সাথে যোগাযোগ করি।পিআইডি তাদের কাছে জমাকৃত ৬৫ জনের তালিকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানায়।কিন্তু পুলিশের বিশেষ শাখায় ৬৩জনের অন্য একটি তালিকা পাওয়া যায়।এ অবস্থায় সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকী সাহার সাথে আমি কথা বলি।পিআইডি যে তালিকা আপনাদের কাছে দিয়েছে আপনারা কি সেটি সিটি এসবিতে প্রেরণ করেছেন,না অন্য কোনো তালিকা(যাচাই বাছাই করে কাউকে বাদ দেয়া জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার আছে) পাঠিয়েছেন। আসলে অনেকের নাম ঐখানে পাওয়া যাচ্ছে না।সেজন্য আপনাকে ফোন দিলাম।তিনি বলেন(এডিএম), ডিসি স্যার যে খাম আমাকে দিয়েছেন,সেটি পাঠিয়েছি।আপনি পাননি(পাস কার্ড)।আমার জন্য না।আমার সহকর্মী সাংবাদিকদের কথা বলছি।তিনি বললেন,ডিসি স্যারের একটু কথা বলে নেন,প্লিজ।আমি একটু কাজের চাপে আছি।পরবর্তীতে রাতেই জেলা প্রশাসন সাংবাদিকদের পাস কার্ড ইস্যু রহিত করে উন্মুক্ত কর্মসূচি সমূহে সাংবাদিকরা পাস কার্ড ব্যতিরেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানিয়ে দেয়।
আমরা আশ্বর্য্য হলাম,৬৩ জনের একটি তালিকা পুলিশের বিশেষ শাখায় গেল।সেটি কিভাবে,কোথা থেকে গেল?যার সাথে পিআইডির তালিকার কোনো মিল নেই।উল্লেখ্য, বিগত ৯এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির জেলা কমিটির সভায় আমি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পাস কার্ড ইস্যু হবে কিনা জেলা প্রশাসক মহোদয় কে জিজ্ঞেস করেছিলাম।এবং আমাদেরকে যেন তা অবহিত করা হয়।সভায় ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস ভাই বলেছিলেন,পাস কার্ড ইস্যুর সময় সিলেট প্রেসক্লাব,সিলেট জেলা প্রেসক্লাব ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাথে যেন সমন্বয় করা হয়।জেলা প্রশাসক জানান,সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ৮০০০ লোকের ধারণক্ষমতা আছে।সেখানে সাংবাদিকদের জন্য প্রেস গ্যালারি পৃথক থাকবে। তিনি ৫০০০ শিক্ষার্থী,২৫০০ দলীয় লোকজন এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন,সাংবাদিক ও কর্মকর্তা মিলে ৫০০ এরকম একটি ধারণা দেন।নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস জেলা কমিটিতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ আছেন(মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে)।তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ পত্র দিতে পারতো জেলা প্রশাসন।এক্ষেত্রে সিটি সিটি কর্পোরেশন তাদের প্রোগ্রামে বিশেষ আমন্ত্রণ পত্র দিতে পেরেছে। ধন্যবাদ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কে।
বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের পাস কার্ড ইস্যু করতে হয়রানির শিকার হন সাধারণ সংবাদকর্মীরা। যত আইন দেখানো হয়।রীতিমতো ভানুমতির খেলা হয়।এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
লেখক:সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব