বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

ঢাকায় র‍্যাবের হাতে আটক সিলেটের ভিসা প্রতারক বিপ্লব

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্ট:
বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বিপ্লব কুমার দাস (৩০) নামে একজনকে আটক করেছে র‍্যাব। সোমবার (২৮ আগস্ট) তাকে ঢাকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের ছয়টি এটিএম কার্ড, একটি এনআইডি কার্ড, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি ইনসুরেন্স কোম্পানির কার্ড, কবির হোসেন নামের একটি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড ও একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এর আগে ই-কমার্সের নামে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার নামে।

আটক বিপ্লব কুমার দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নয়াহালট গ্রামের সত্যরঞ্জন দাসের ছেলে এবং বর্তমানে সিলেটের শাহপরান থানাধীন শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

জানা যায়, রোমানিয়া যাওয়ার জন্য বিপ্লব কুমার দাসের সাথে ৭ লক্ষ টাকার চুক্তি হয় মামলার বাদী কবির হোসেনের। তিনি গত ৮ আগস্ট ঢাকার একটি হোটেলে বিপ্লব কুমার দাসের কাছে পাসপোর্ট ও নগদ ৪ লক্ষ টাকা হস্তান্তর করেন এবং বাকি ৩ লক্ষ টাকা ভিসা হওয়ার পর দেওয়া হবে বলে কথা হয়। একই স্থানে পরিচয় হয় সিলেটের শেখঘাট কলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজাউর রহমানের সাথে। মিজাউর রহমান কবির হোসেনকে জানান, তিনিও রোমানিয়া যাওয়ার জন্য ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ৪ লক্ষ টাকা, চলতি বছরের ২১ জুন ৩ লক্ষ টাকা এবং ১৫ জুলাই ২ লক্ষ টাকাসহ মোট ৯ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু এত টাকা দিয়েও রোমানিয়া যাওয়া কোন ভিসা এখন পর্যন্ত তাকে দেওয়া হয়নি।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা থানার মহিতোষ দাশ। ইতালি যাওয়ার জন্য চলতি বছরের ২৪ জুলাই পাসপোর্টসহ ৬ লক্ষ টাকা বিপ্লবের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনিও।

মিজাউর রহমান ও মহিতোষের ভিসা হয়েছে এবং ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট এই কথা বলে ২৫ আগস্ট তাদের দুজনকে ঢাকায় আনেন বিপ্লব। তাদের দুজনের পাসপোর্টে ভিসা লাগানো হয়েছে বলেও তাদের দেখান তিনি। ঐদিন ফ্লাইট না হওয়ায় দুজনের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিলে তারা ভিসার সত্যতা যাচাই করেন এবং যানতে পারেন তাদের ভুয়া ভিসা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি র‍্যাব-১ কে অভিহিত করেন তারা দুজন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার আশুকোনার সততা হোটেলের ২০৪ নাম্বার কক্ষ থেকে ২৮ আগস্ট বিকেলে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে বিপ্লবকে আটক করা হয়। এসময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রতারণার মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতসহ সাইদ শিকদার ও মণির নামে দুই সহযোগীর নাম স্বীকার করে বিপ্লব। পরবর্তীতে বিপ্লব কুমার দাসকে প্রধান আসামি ও সহযোগী দুজনকে পলাতক আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

শুধু বিদেশের নামে টাকা আত্মসাৎ নয় এর আগে সিলেটে ই-কমার্স নামে প্রতিষ্ঠান খুলে লোকজনকে প্রতারিত করেছেন বিপ্লব কুমার দাস। জানা যায়, বছর দেড়েক আগে বেঙ্গলহাট নামে একটি ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করেন তিনি। সেখানে অতিরিক্ত লাগের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আনেন বিপ্লব।

নাম না বলার শর্তে এক ভুক্তভোগী যুবক জানান, ই-কমার্সের মাধ্যমে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বিপ্লবকে ৩ লক্ষ টাকা দেন তিনি। কিন্তু তারিখের পর তারিখ পরিবর্তন হলেও মোটরসাইকেল বা টাকা কিছুই পান নি তিনি। সর্বশেষ বিপ্লবের র‍্যাবের হাতে আটকের কথা জানার পর বিপ্লবের বাসায় যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। টাকা না পেলে মামলা করবেন বলেও জানান এই যুবক।

শেয়ার করুন