২৮ মে ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
আছমা জান্নাত মনি(বিশেষ প্রতিনিধি) বার্মিংহাম,যুক্তরাজ্য থেকে:
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তা একজন মানুষ হিসেবে গভীরভাবে ব্যথিত করে। প্রতিদিন সংবাদ খুললেই কোথাও না কোথাও শিশু ধর্ষণ, কিশোরী নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের পর হত্যার খবর দেখা যায়। ধীরে ধীরে যেন মানুষ এসব খবরের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে—আর এটিই সবচেয়ে ভয়ংকর।
কয়েকদিন আগেই রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শিশুটির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর আগেও মুন্সীগঞ্জে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে চার বছরের শিশুর মরদেহ ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধারের ঘটনা দেশকে নাড়িয়ে দেয়।
এসব শুধু “সংবাদ” নয়। এগুলো প্রতিটি পরিবারের ভয়, প্রতিটি মায়ের আতঙ্ক, প্রতিটি শিশুর অনিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যেই অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বহু শিশুকে। আবার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০২৫ সালেই হাজার হাজার মামলা হয়েছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, অনেক ভুক্তভোগী বিচার চাইতেও ভয় পান। কেউ সামাজিক লজ্জার কারণে চুপ থাকেন, কেউ প্রভাবশালীদের ভয়ে পিছিয়ে যান। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নির্যাতিত নারী বা শিশুর পরিবারই উল্টো হেনস্তার শিকার হয়। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।
একজন মানুষ হিসেবে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে পেরেছি? যেখানে একটি শিশু স্কুলে যেতে ভয় পাবে না, একটি মেয়ে সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরতে আতঙ্কিত হবে না—এমন বাংলাদেশ কি আমরা তৈরি করতে পারছি?
ধর্ষণ রোধে শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না। পরিবার থেকে ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে। সমাজকে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র—সবাইকে একসাথে দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ একটি ধর্ষণের ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, পুরো সমাজের বিবেককে আহত করে।
একটি সভ্য সমাজের পরিচয় তার উঁচু ভবন দিয়ে নয়, বরং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা দিয়ে নির্ধারিত হয়। আজ সময় এসেছে নীরব না থেকে মানবিকতা, সচেতনতা ও প্রতিবাদের পক্ষে দাঁড়ানোর।