শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ

সীমান্তে মানবিকতার নতুন দিগন্ত বিজিবির আলোর পথে কর্মসূচি ও বহুমুখী জনকল্যাণমূলক উদ্যো

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ৬:০৬ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এবার সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এক অনন্য ও মানবিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় অপরাধমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে আলোর পথে শীর্ষক একটি ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবি। রবিবার ২৬ এপ্রিল জৈন্তাপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ আয়োজনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মূলধারার উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার এক বলিষ্ঠ প্রয়াস চালানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন বলেন যে সীমান্ত অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী মহল সাধারণ মানুষকে মাদক পাচার ও চোরাচালানের মতো ধ্বংসাত্মক পথে পরিচালিত করে।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা স্পষ্ট করেন যে কেবল কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয় বরং এর জন্য টেকসই বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা প্রয়োজন।

আলোর পথে প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বেকার যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করতে দেওয়া হচ্ছে এলইডি বাল্ব তৈরির বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ যা তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একই সাথে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে কয়েকশ অসহায় মানুষকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ এবং প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সভায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতি ও সীমান্ত পিলারের ঝুঁকির বিষয়ে কঠোর সতর্কতা প্রদান করা হয়। বিজিবির এই দূরদর্শী ও কল্যাণকামী উদ্যোগটি সীমান্তবাসীর মধ্যে বিপুল উৎসাহের সৃষ্টি করেছে যা ভবিষ্যতে একটি অপরাধমুক্ত এবং স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন।

শেয়ার করুন