শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ মে ২০২৫, ৭:০৯ অপরাহ্ণ

ওসমানী বিমানবন্দরের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্মারকলিপি

আপডেট টাইম : মে ৫, ২০২৫ ৭:০৯ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে বিমানবন্দরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত বলে দাবি করে স্থানীয়রা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার সিলেট সদর উপজেলার বড়শালা, ছালিয়া, কেওয়াছড়া টি গার্ডেন ও আঙ্গারুয়া মৌজার স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহমদ, আব্দুল মজিদ, মনসুর আহমদ, মো. আবুল খায়ের, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. রাজা মিয়া, মো. মন্তাজ আলী, হাজী সুনু মিয়া, আলাই মিয়া, সিদ্দেক আলীসহ প্রায় সাতশতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট সদর উপজেলার লালবাগবাসীর পূর্বপুরুষদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও বাড়িঘর বিমানবন্দরের প্রয়োজনে একাধিক এলএ মামলায় (৩/৯৩-৯৪, ৯/৯৬-৯৭, ২/৯৮-৯৯ ইত্যাদি) অধিগ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ১৫৮.৫২২৫ একর জমি স্থায়ীভাবে অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এতে স্থানীয়রা জমি বিক্রি করতে পারছেন না, ফলে বিবাহ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বারবার দাগসূচি ও নকশা পরিবর্তন করে জমির পরিমাণ বাড়িয়ে-কমিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন ও ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা আত্মীয়-স্বজন ও ভূমিখেকোদের নামে আশেপাশে জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেছেন। এসব জমি অধিগ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করতে তারা প্রস্তাব বারবার সংশোধন করছেন। এতে সরকারি অর্থের ক্ষতি ও উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

লালবাগ গ্রামের নামকরণ হয়েছে হযরত শাহ-লালুশাহ (রা.)-এর নামে। ১০৬৪ নং দাগে তার মাজার ও কবরস্থান রয়েছে, যা পূর্বপুরুষদের স্মৃতিধন্য। এলাকাবাসী দাবি করেন, মাজার, কবরস্থান ও পীরস্থান সংরক্ষণ করে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হোক। জেলা প্রশাসক আগেই এ বিষয়ে আশ্বাস দিলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

স্মারকলিপিতে ১৯ বছর ধরে একই পদে থাকা পরিচালক হাফিজ আহমদ ও ৬-৭ বছর ধরে কর্মরত ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজনকে অবিলম্বে বদলি ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বে-সামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন