শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৯ মে ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

তিন কক্ষের পুরোনো ভবনে ২শ শিক্ষার্থী,সংকটে মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট টাইম : মে ৯, ২০২৬ ৭:৫১ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

ইমাম উদ্দিন:জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা-এর ২নং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে।
বিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্রীপুর চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান, মোকামপুঞ্জির খাসিয়া পল্লীর শিশু, আলুবাগান এলাকার হিন্দু ও পাত্র সম্প্রদায়ের শিশু এবং স্থানীয় মুসলিম পরিবারের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের শিশুদের মিলনস্থল হিসেবে বিদ্যালয়টি এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয়দের জানান, প্রতিষ্ঠাকালে বাঁশ-বেতের ঘরে পাঠদান শুরু হলেও ১৯৯৪ সালে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনের ওপরই এখনো নির্ভর করছে পুরো বিদ্যালয়টি। বর্তমানে প্রায় ২শ শিক্ষার্থীর জন্য ভবনটি একেবারেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।গাদাগাদি করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে। তীব্র গরমে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়,বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।এছাড়া শিক্ষকদের বসার জন্য ছোট একটি অফিস কক্ষ থাকলেও সেখানে অফিসের আসবাবপত্র রাখতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গারও সংকট রয়েছে।

৯ই মে শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে ২নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম বলেন,মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এই এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু বর্তমান ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রতুল।শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ জরুরি।

এ বিষয়ে ২নং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন,এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা এখানে লেখাপড়া করে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজমল আলী বলেন,বর্তমান ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো বসার ব্যবস্থাও নেই। একটি আধুনিক ও প্রশস্ত ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইমাম উদ্দিন বলেন,
বিদ্যালয়টিতে মাত্র তিনটি কক্ষে নাজুক পরিবেশে পাঠদান করানো হয়।ছোট একটি অফিস কক্ষে শিক্ষকরা ঠিকমতো বসতেও পারেন না।বর্তমান ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে লেখাপড়া করছে।একটি আধুনিক ও বড় ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বলেন বিদ্যালয়টিতে বেশিরভাগ সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা লেখাপড়া করে এবং ২শ শিক্ষার্থী ও ৫জন শিক্ষক আছেন।তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন