,

5 September 2026, 10:56 AM

সীমান্তবর্তী ঘিলাতৈল গ্রামে ফের সংঘর্ষ,আহত ৭ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের নেপথ্যে কী, উঠছে নানা প্রশ্

আপডেট টাইম : September 5, 2026 10:56 AM



শেয়ার করুন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:ইমাম উদ্দিন

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলাতৈল গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ ও সাবেক ইউপি সদস্য পংকি মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ও আহত হয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় পথচারীসহ প্রায় ১৮ জন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।

পুলিশ,স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনে কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং কোনো পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে গ্রেপ্তারের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,শুধু আধিপত্য বিস্তার নয়—মানবপাচার, চোরাচালান ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।তাদের দাবি,অতীতে একটি পক্ষ মানবপাচার,চোরাচালানসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। বর্তমানে এসব কে কেন্দ্র করেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘিলাতৈলকে কেন্দ্র করে চোরাচালানের একটি কথিত রুট গড়ে উঠেছে। এ রুটের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরেই প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা কৌশলে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এমনকি ‘নোয়াখালী-সিলেট’ পরিচয়কে সামনে এনে সামাজিক বিভক্তি তৈরির চেষ্টার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

একই এলাকায় পরপর দুই দিনে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এলাকাবাসী সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মানবপাচার,চোরাচালান কিংবা অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলোও তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের দাবি, সংঘর্ষে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘিলাতৈলে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। কেউ পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে বা ঝগড়া-বিবাদে জড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উভয় পক্ষ মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন