2 September 2026, 4:16 AM
আমির উদ্দিন
নাম মোহাম্মদ তাজুল হক, বয়স ৭০ উৰ্ধ। গ্ৰামীন বাশঁ বেত দিয়ে বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি করে শুধু জিবিকা নির্বাহ নয় বরং কুটির বা হস্তশিল্প কে ধরে রেখে ও ঐতিহ্যের সাক্ষর রেখে চলেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মাতুরতল বাজারের ব্যবসায়ী ও পূর্ব পান্তুমাইর বাসিন্দা তাজুল হক।
সর্ব সাকুল্যে ৫০ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে চালু করা এই বেত শিল্প শুধু এলাকা নয় বরং এলাকার চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার বাহিরেও বিক্রি করা হয়। কৃষি বাংলাদেশের আধি ও প্রধান পেষা। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ প্ৰত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। আর কৃষি কার্যে এসব জিনিস-পত্র বেশিরভাগ ই ব্যবহৃত হয়।
একসময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খারা, কুলা, টুকরি, পাখা, বেলাইন, টুকরি,পাটি, ডাম সহ বেত দিয়ে নিৰ্মিত বিভিন্ন ব্যবহারী গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে তেরি হলেও এখন কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে যেতে চলেছে। এর ব্যতিক্রম পল্লী গ্রামের এই বৃ্দ্ধা। পরিবারের বুঝা আর চাপ মাথায় নিয়ে যে বয়সে আরাম আয়েশের কথা ছিলো সেসময় ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছেন পান্তূমাই গ্রামের এই ব্যক্তি।
আধুনিকতার ছোঁয়া ইতিহাস ঐতিহ্য আর কৃতিত্বের ধারক ও বাহক গ্রামের সেই প্ৰচীন সভ্যতাকে হার মানাতে বসেছে। এর ব্যতিক্রমী হিসাবে এসব জিনিস পত্র তৈরি করে বার্তা দিতে চান এজনপদের মানুষ কে। স্বল্প দামে বিক্রি করা এসব ব্যবহারী জিনিসপত্র গ্রামীণ কৃষক পরিবারকে অনেক সহায়তা করে।
৯ জন সদস্যের পরিবারে বৃ্দ্ধা তাজুল হক এক অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্টজন। সরকারী সহায়তা পেলে উদ্যোক্তা তাজুল হক হস্তশিল্পের কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সম্মৃদ্ধ করবে বলে দাবি তাজুল হকের।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান ৭০ উৰ্ধ এমন বয়স্ক লোকের এমন উদ্যোগ তরুন ও বেকার যুব সমাজকে উৎসাহিত ও অনুপ্ৰাণিত করবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রনোদনা ও কারিগরি সহযোগিতা এমনকি অর্থনৈতিক সহযোগিতা করা হবে।