28 August 2026, 3:03 PM
যেদিন আমার ক্যান্সার ধরা পড়লো সেদিন ডাক্তারের চেম্বারে আমার সাথে বাবা ছিলেন।
ডাক্তার আমাকে কিছুই বললেন না। শুধু বললেন, তুমি একটু বাইরে যাও।
সব বলেছিলেন বাবাকে। চেম্বার থেকে বের হয়ে বাবা শুকনো ঠোঁট জোড়া বারবার জিহ্বা দিয়ে ভেজাচ্ছিলেন৷ চোখ দুটো লাল দেখাচ্ছিলো। বাবা এসে আমার ডান হাত চেপে ধরে বললেন, তেমন কোনো সমস্যা নেই। ঠিক হয়ে যাবে। বলতে গিয়ে তাঁর গলা কাঁপছিল।
আমি মুচকি হেসে বললাম, আমি ভয় পাচ্ছি না। ক্যান্সার কোন স্টেইজে আছে সেটা বলুন। আমার শরীর বলে ফোর্থ স্টেইজ।
বাবা কোনো জবাব দেন না। তাঁর এক হাতে দুনিয়ার ফাইল পত্র। ওয়েটিং রুম ভর্তি মানুষ । তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চা মানুষের মত হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলেন।
আধভাঙ্গা গলায় বললেন,আমি তোমাকে দেশের বাইরে পাঠাবো। বায়োপসি, সিটি স্ক্যান রিপোর্ট নিশ্চয়ই ভুল হয়েছে।
আমি জানি এটা বাবার সান্ত্বনা। আমি বললাম, বাড়ি চলুন। খুব ক্ষিধে পেয়েছে।
বাইরে তখন কড়া রোদ। পিজির ক্যান্সার ভবন থেকে বের হলাম। এক লোক পাকা পেঁপে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করছিলেন। ভ্যানের চারপাশ কাঁচ দিয়ে ঘেরা। বাবাকে বললাম, খুচরো টাকা আছে? এক প্লেট পেঁপে কিনে দিন।
বাবা মৃদু স্বরে বললেন,বাইরের জিনিস খাওয়া কি ঠিক হবে?
আমি মুচকি হেসে বললাম, বাইরের জিনিস না খেলে কি ক্যান্সার ভালো হয়ে যাবে?
বাবা আর কিছু বললেন না। পেঁপে কিনে দিলেন। কাঁটা চামচ দিয়ে পেঁপে খাচ্ছি। মনে হচ্ছিলো পেঁপের মত সুস্বাদু খাবার পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই৷
তীব্র রোদে তখন দরদর করে ঘামছি৷ রিকশার টুংটাং। হাসপাতালের পাশের সস্তা হোটেল। পেয়ারা,ড্রাগন ফল নিয়ে রোদের মধ্যে বসে আছে কয়েক জন। কেউ আবার সস্তা দরে মেয়েদের পোশাক বিক্রি করছে। ফাইল হাতে রোগীরা ঢুকছে এক নম্বর গেট দুই নম্বর গেট।
শাহবাগ থেকে সিএনজি নিলাম একটা। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড যাব। সেখান থেকে বিনিময় বাসে সোজা টাঙ্গাইল। সিনএনজি আটকে রইল ফার্মগেটের জ্যামে। অবশ্য জ্যামও ততটা খারাপ লাগছে না।
কখনও কখনও কিছু সময় আসে যখন মনে হয় সব থেমে যাক। ঠিক যেমনটা মনে হত ছোটবেলায়। সন্ধ্যাবেলায় বিদ্যুৎ থাকতো না। কী এক আনন্দ! মনে হত বিদ্যুৎ আর না আসুক তাহলে আজ আর পড়তে বসতে হবে না।
যখন বেড়াতে যেতাম নানু বাড়ি বন্ধুরা মিলে উঠোনে বসে জটলা পাকাতাম । আমাদের গ্রাম্য ভাষায় বাড়ির সামনের বড় জায়গাকে বলা হয় বাই বাড়ি। খড় বিছিয়ে বসতাম সেই বাই বাড়ি। গোয়াল ঘর থেকে মশা মারার জন্য নারকেলের ছোবড়া জ্বালানো হত। তার ধোঁয়া আসতো অল্প অল্প।
শত শত জোনাকি তার আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়াতো মাথার উপর৷ চাঁদের আলো জানালা গলে ঘরে ঢুকতো। বাঁশ গাছে বাসা বাঁধা নাম না জানা পাখি ডানা ঝাপটাতো । ঠিক তখন আমার মনে হত ঘড়ির কাঁটা চেপে ধরি। মনে হত সময়টা থেমে যাক। ইশ! আমার শৈশব।
আমি এখন মন চাইলেই চলে যাই আমার নানু বাড়ি করিমপুর। বসে থাকি সেই নদীর পাড়ে৷ হেঁটে যাই দু’ধারে সারি সারি সবুজ গাছের মধ্যে দিয়ে।
কলকল করে নদীর জল বইতে থাকে। টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার করিমপুর গ্রামের এই নদীটা বর্ষাকালে কী যে অপরূপ দেখায়! বংশাই নদীর শাখা।
আমার যখন শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায় আমি তখন চোখ বন্ধ করে নানু বাড়ির সেই নদীর পাড়ে চলে যাই। হুমায়ূন আহমেদের সেই ময়ুরাক্ষী নদীর মত।
জ্যাম পেরিয়ে মহাখালী বাসট্যান্ডে আসতে আসতে তিনটা বেজে গেল। মাথা ব্যথা করছিল তখন। আমি বসেছিলাম জানালার পাশে। জানালা দিয়ে দেখছিলাম সব। আর ভাবছিলাম ফেলে আসা দিনের কথা।
অন্য সময় হাতে ফোন থাকে। আজ ফোন নেই। ফোন চালানোর তাড়া নেই৷ জানালা দিয়ে দেখছিলাম আমড়া বিক্রি করছিল ছোট এক ছেলে। ওর পায়ে জুতো নেই৷ দৌড়ে উঠছিল গাড়িতে।
রাস্তায় কড়া রোদে বসে আছে এক হাত কাটা বৃদ্ধ। কাঁচের জিনিসপত্র বিক্রি করছে। বাচ্চা কোলে ভিক্ষা করছিল এক মহিলা৷
আমার কেবল মনে হচ্ছিলো তারা নাকি আমি কে বেশি দুঃখী? নিশ্চয়ই আমি বেশি দুঃখী।
কিছুক্ষণ পর আমার তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো। গা গুলিয়ে বমি আসছে। পেটে মোচড় দিচ্ছে। ইশ কী যন্ত্রণা! কয়েকদিন পর হয়ত আমার পেটে ঝুলবে কোলস্টমি ব্যাগ। দুর্গন্ধ যুক্ত মল জমা হবে সেই ব্যাগে।
প্রথম দিকের বিষয়গুলো ছিল একেবারে সাধারণ। কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্ত যাওয়া। পেটে ব্যথা। পেট ফুলে যাওয়া। অরুচি। ওজন কমতে কমতে পাটকাঠি হয়ে গেলাম।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে মুঠো মুঠো গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়েছি কেবল নিজে নিজে। হোস্টেলে থাকি খাবারে অনিয়ম তো আমাদের নিত্য সঙ্গী। অতবড় রোগ হয়েছে কে জানতো!
এরপর যখন আর কুলানো গেল না তখন বাড়ি এলাম। বুকে ব্যথা, পেট ব্যথা, জ্বরে বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি করি।
সাত বছরের বোন এসে মাথায় জলপট্টি দিয়ে দেয়। থার্মোমিটারের পারদ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যায়। শরীরটাকে তখন মনে হত উত্তপ্ত কড়াই।
ডাক্তারের কাছে নিয়ে দৌড়ালেন মা। অ্যাডমিশন টেস্ট আর কী দিব ডাক্তারের চেম্বারে দৌড়ে সিরিঞ্জ সিরিঞ্জ রক্ত দিতে হলো। এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড, কলোনোস্কোপি আরও কত রকম পরীক্ষা। শেষ দুটো পরীক্ষায় জানা গেলো কোলন ক্যান্সার ছড়িয়ে গেছে ফুসফুস,হাড়,লিভারে।
জীবন কখনও কখনও আমাদের এমন এক জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় যে জগতের সবকিছুই আমাদের অচেনা।
কেমোথেরাপি শুরু করার আগে বাবা সব টাকা যোগাড় করলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে এমন অসুখ শুধু শারীরিক নয় বরং আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে দেয়। বাবার এমন দৌড়াদৌড়ি দেখে আমার মায়া হলো।
একদিন সন্ধ্যায় চুপচাপ শুয়ে আছি। হঠাৎ বাবা এসে কপালে হাত রাখলেন। ঠান্ডা হাত। আমার চোখে জল গড়িয়ে পড়লো। বাবা মৃদু স্বরে বললেন, তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি পনেরো লাখ টাকা ম্যানেজ করেছি। সব ব্যাংকে রেখে এলাম।
আমি জানি এই টাকা ম্যানেজ করেছে জমি বিক্রি করে। গ্রামের বাড়ির জমি। এই জমি নিয়ে বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। কখনও ভাবতো ওখানে একটা মিল দেবে আবার কখনও ভাবতো গরুর খামার দেবে, কখনও ভাবতো ফলের বাগান দেবে। স্বপ্ন স্বপ্নের ঘরেই রয়ে গেল।
এখন আমার ঠিকানা হাসপাতালের সফেদ বিছানা। দরজায় ঝুলতে থাকা সাদা পর্দা। হাতের মধ্যে ক্যানুলা, ইনজেকশন। দফায় দফায় ওষুধ। টেস্ট।
আমার আরেক দফা যন্ত্রণা শুরু হলো কেমোথেরাপি শুরু করার পর। প্রথমদিন কিছু টের পাওয়া গেল না কিন্তু তিন চারদিন পর আর মাথা নিয়ে উঠতে পারি না। মুখ ভর্তি ঘা, ডায়রিয়া। হাড়ের ব্যথায় ভেতরটা মনে হয় চুরচুর হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ছাদ থেকে লাফ দেই।
আমার পাশের বেডেই এলো নাইনে পড়ুয়া এক কিশোর । মাঝে মাঝে আমার বেডের কাছে আসে। ওর হাতটা দেখায়। অভিযোগের সুরে বলে, দেখেছো ভাইয়া নার্স ক্যানুলা করতে পারে না। কেমন করে হাতটা ফুলে গেলো।
আমি মিছে আশ্বাস দেই কয়েকদিনের মাঝে ভালো হয়ে যাবে। আমি দেখলাম নরম হাতটা অনেকটা ফুলে গেছে।
ওর সাথে আমার সকাল, বিকাল গল্প হয়। গা দুলিয়ে দুলিয়ে ও গল্প করে। বড় চুল থাকার কারণে স্যারদের কাছে কত মার খেয়েছি জানেন তবুও চুল কাটতে ইচ্ছে করেনি এখন তো চুলই নেই। হা হা৷
ওর হাসির মধ্যে একটা গভীর বিষাদ!
মিথ্যে হাসির মানে ততদিনে জেনে গেছি।
সপ্তাহ খানেক পর কেমো শুরু হলো। থার্ড কেমো।
কেমো দেয়ার পর ওর ছোট্ট শরীর সেটা সহ্য করতে পারলো না। প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। জানালার পর্দা দুলছিল তখন। বাইরে মেঘ জমেছে। বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি শুরুর আগেই ছেলেটাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে নেয়া হলো। যন্ত্রণা কিছুটা কম হোক। অক্সিজেন দিয়ে রাখা হবে। মরফিন দিয়ে ব্যথাটাকে খানিকটা কমানো হবে।
এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার আগে সবাই একটু যত্ন চায় একটু স্পর্শ চায়, সাহস চায়।
ছেলেটাও আমার মত লাস্ট স্টেজের ছিল। মাঝরাতে ছেলেটা চলে গেল। আমার কানে বাজতে থাকলো সেই হাসি। মিথ্যে হাসি। স্ট্রেচারে নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ইচ্ছে করছিল ওর হাতটা একটু দেখি। হাতটা ফুলে আছে কিনা জানতে ইচ্ছে করছিল।
প্রথম সাইকেল কেমো শেষ করার পর বাড়িতে এলাম। একদিন বিকেলে বাবাকে ডেকে বললাম, টাকাটা ব্যাংক থেকে আর তুলবেন না। ওটা জমা থাকুক। আমার আর ইচ্ছে করছে না হাসপাতালে যেতে ।
বাবা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি জানি তুমি কেন এমন ভাবছো কিন্তু আমার সামান্য সম্পদ অবশিষ্ট থাকা পর্যন্তও আমি তোমার চিকিৎসা করব।
বাবা বাইরে চলে গেলেন। উদাস হয়ে বাইরের আকাশ দেখছি। পাখিরা আপন মনে নীড়ে ফিরছে। আজ বেশ ভালো লাগছে। মা এসে কোরআন পড়ে ফুঁ দিয়ে যান নিয়মিত৷ কাঁদতে কাঁদতে কেমন ফ্যাকাশে লাগে তাকে।
দ্বিতীয়বার কেমো দেয়ার পর অসুস্থতায় কাবু হয়ে গেলাম। পেটের কাছে থাকা কোলস্টমি ব্যাগ এটা আরেক যন্ত্রণার নাম। বাবা এসে প্রতিদিন পরিস্কার করেন। আমি লোকটাকে অপলক চোখে দেখি। স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগের সুযোগ আর নেই। কৃত্রিম ব্যাগই এখন ভরসা।
একদিন মাঝরাতে তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হলো। শরীর ঘেমে একাকার। দম বন্ধ লাগছিল। হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।
বাবা এদিক ওদিক ছুটছিলেন। ইশারায় বাবাকে ডাকলাম। তার কপালের ডান দিকে কাঁটা দাগটা ছুঁয়ে মৃদু স্বরে বললাম, এখনও কি ব্যথা আছে বাবা?
তিনি ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। তাকে কখনও বাবা বলে ডাকিনি। সৎ বাবাকে বাবা বলে কেন ডাকব সেই অহংকার আমার ছিল। অহংকারে ছেদ পড়েছে।
যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন মায়ের আবার বিয়ে হয়। কী দুঃসহ যন্ত্রণা! স্কুলে গেলে বন্ধুরা ঠাট্টা করতো , মায়ের বিয়ে কেমন খেলি?
কী ঘৃণা হত মাকে! এই লোককে আবার বিয়ে করার দরকার কী ছিল ? শুধু শোয়ার জন্য ছি!
সেই বয়সে কখনও ভাবিনি স্বামী মারা যাওয়ার পর একজন নারীর পক্ষে সংগ্রাম করা কত কঠিন।
গ্রামের মানুষের বিশ্রী ইঙ্গিত কিংবা তার সন্তান মানুষ করার জন্য আর্থিক অসঙ্গতি, পরিবারের মানুষের অবহেলা তাকে কতটুকু যন্ত্রণা দিতে পারে সেই সময় বোঝার বয়স হয়নি।
শুধু বুঝতাম আমার বাবার জায়গায় অন্য একজন জোর করে দখল করার চেষ্টা করছে।
স্ত্রী মারা যাওয়া হাইস্কুলের সেই শিক্ষকও নিঃসন্তান ছিলেন। স্ত্রীর বাচ্চা হবে না জেনেও ত্যাগ করেননি। তার মৃত্যুর পর কেবল নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলেন।
বেচারা আমার সাথে সখ্যতার চেষ্টা করেছিলেন খুব কিন্তু লাভ হয়নি। আমি তাকে ঘৃণাই করতাম।
একদিন ঝগড়ার এক পর্যায়ে খন্দকার মাসুম বিল্লাহ নামের এই ব্যক্তিকে পিঁড়ি দিয়ে ঢিল দিয়েছিলাম। কপাল কেটে রক্ত বেরোচ্ছিল। আমার কোনো অনুশোচনা হয়নি।
আমার অনুশোচনা হয়েছে আরও চার বছর পর। আমি সেই কাঁটা কপালটা একবার ছুঁয়ে দেখলাম। আমার হাত কাঁপছিল। আমি শুধু এইটুকু কাঁপা গলায় বলতে পারলাম, বাবা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।
ভদ্রলোকের চোখ ছলছল করছিল। সে এক হাত দিয়ে আমার গাল ছুঁয়ে রইল। ঠান্ডা হাত। সেই হাতে পিতৃত্বের কী গভীর অনুভূতি!
ছোটবেলায় জ্বর এলে বাবা যেমন গাল ছুঁয়ে থাকতেন আজ তার স্পর্শে আমি সেই বাবাকে খুঁজে পেলাম। আমার ইচ্ছে করছে তার কোলে মাথা দিয়ে থাকতে।
ডাক্তাররা একটু পর পর এসে আমাকে দেখে যাচ্ছেন। কে যেন মৃদু স্বরে বলছে, নাঈম তুমি ঘুমিয়ে যেয়ো না, জেগে থাকো।
নাঈম নামের এই ছেলেটির অবস্থা দেখে ডাক্তার দুদিন আগেই বলেছেন, চাইলে আপনারা বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। আমাদের আর কিছু করার নেই।
ওর বাবা বাড়ি নিয়ে যাননি।
মুয়াজ্জিন আযান দিচ্ছেন। মৃদু স্বরে ভেসে আসছে, আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম। এর অর্থ দাঁড়ায়,ঘুম থেকে নামাজ উত্তম।
খন্দকার মাসুম বিল্লাহর কোলে শুয়ে আছে যে ছেলেটি সেই ছেলেটির ইচ্ছে করছে সেই অষ্টম শ্রেণিতে ফিরে যেতে। হাসি মুখে এই লোকের হাত ধরে নদীতীরে হেঁটে যেতে।
কান্না জড়ানো কণ্ঠে এক নারীর কোরআন তিলওয়াতের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। জানালার পর্দা উড়ছে। আকাশে কালো মেঘ। আজ কি বৃষ্টি হবে?
বৃষ্টি হলে হোক। থই থই জলে ভরে যাক। শৈশবের সেই নদী পাড়ে আজ ছেলেটা পা ভিজিয়ে বসে থাকবে।
পিতৃত্ব
Tuffahul Jannat Maria
তুফ্ফাহুল জান্নাত মারিয়া:শিক্ষক,ঔপন্যাসিক ও গল্পকার
সাবেক শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়