2 September 2026, 3:41 AM
আসমা জান্নাত মনি,বিশেষ প্রতিনিধি ,যুক্তরাজ্য
আমরা যখন সকালে পত্রিকা হাতে নিই, তখন চোখ যায় খবরের দিকে। কে কী বললেন, কোথায় কী ঘটল, কোন ঘটনার কী পরিণতি—এসব নিয়েই আমাদের আগ্রহ। কিন্তু খুব কম মানুষই ভাবি, এই খবরটি আমাদের হাতে আসার আগে কতজন মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
একজন রিপোর্টার হয়তো রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিলেন। কারও সঙ্গে কথা বলেছেন, তথ্য মিলিয়েছেন, বারবার ফোন করেছেন। তারপর ডেস্কে খবর পাঠিয়েছেন। ডেস্কে বসা সাংবাদিক সেটি সম্পাদনা করেছেন। ফটোগ্রাফার ছবিটি পাঠিয়েছেন। অনলাইন ডেস্কে খবরটি প্রকাশ হয়েছে। আর ছাপা পত্রিকার জন্য প্রেসে তখন রাত জেগে কাজ চলছে।
ভোর হওয়ার আগেই সেই পত্রিকা আবার হকারের হাতে।
হকার হয়তো তখন সাইকেল বা মোটরসাইকেলে পত্রিকার বান্ডিল নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন। শহরের ঘুম ভাঙার আগেই তিনি পরিচিত বাড়িগুলোতে পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছেন।
এই পুরো কাজের মধ্যে সবচেয়ে কম দেখা যায় মানুষগুলোকে।
অনলাইন সাংবাদিকতার কারণে এখন খবর আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কোনো ঘটনা ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মোবাইলে খবর চলে আসে। কিন্তু সেই দ্রুততার পেছনেও মানুষ আছে। রিপোর্টার মাঠে তথ্য সংগ্রহ করছেন, অনলাইন ডেস্ক যাচাই করে খবর প্রকাশ করছে, নতুন তথ্য এলে আবার সেটি আপডেট হচ্ছে।
পাঠক শুধু খবরটি দেখেন। পেছনের ব্যস্ততাটা দেখেন না।
সাংবাদিকতার এই মানুষগুলোই আসলে একটি সংবাদমাধ্যমের নীরব শক্তি। তাদের কেউ সামনে থাকেন, কেউ থাকেন একেবারে আড়ালে। কেউ রাত জাগেন, কেউ ভোরে বের হন, কেউ দিনের পর দিন মাঠে ঘুরে খবর খোঁজেন।
একটি সংবাদপত্রের দুই দশকের পথচলা তাই শুধু প্রকাশিত খবরের ইতিহাস নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের শ্রম, সময় আর জীবনের গল্প।
সময় বদলেছে, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম বদলেছে। ছাপা পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন এসেছে, মোবাইল সাংবাদিকতা এসেছে। কিন্তু একটি বিষয় বদলায়নি—একটি খবর মানুষের কাছে পৌঁছাতে এখনো মানুষেরই প্রয়োজন হয়।
আমরা সকালে খবরটা পড়ি।
কিন্তু সেই খবরের পেছনে যে রাত জেগে থাকা মানুষগুলো আছে, তাদের কথা মনে রাখি কতটা? খবরটা আমরা পড়ি কিন্তু সেই খবরের পেছনের মানুষগুলো থেকে যায় আড়ালে।