শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ মে ২০২৫, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

সিলেটে সহকারী শিক্ষকদের ১ ঘণ্টা কর্মবিরতি, তিন দফা দাবি আদায়ের লড়াই

আপডেট টাইম : মে ৫, ২০২৫ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে সোমবার (৫ মে) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ডাকে সারাদেশের মতো সিলেটের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। কর্মসূচির বিস্তারিত হলো ৫ থেকে ১৫ মে: প্রতিদিন ১ ঘণ্টা কর্মবিরতি, ১৬ থেকে ২৫ মে: প্রতিদিন ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি, ২৬ মে থেকে: পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি

সহকারী শিক্ষক পদকে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ। ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা দূরীকরণ।প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ দ্রুত পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি প্রমথেশ দত্ত বলেন, “২০০৯ সালে একবার পদোন্নতি দেওয়া হলেও গত ১৬ বছর ধরে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও পদোন্নতি বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক শিক্ষক ২৫-৩০ বছর চাকরি করেও একই পদে অবসর নিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী ১০ ও ১৬ বছর পর স্বয়ংক্রিয় গ্রেড পাওয়ার কথা, কিন্তু শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এভাবে মানসম্মত শিক্ষা অসম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

সিলেট জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম বলেন, “গোলাপগঞ্জসহ সিলেট জেলায় আজকের কর্মবিরতি সফল হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।”

সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ নেওয়াজ বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য। তারা ১১তম গ্রেডের নিচে বেতন পান, অথচ দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের সমান। পদোন্নতি না পেলে শিক্ষার মান বাড়বে কীভাবে?”

শিক্ষকরা বলছেন, তাদের দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং ন্যায্য অধিকার। সরকারের উচিত দ্রুত এই ইস্যু সমাধান করে প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা।

শেয়ার করুন