২৮ এপ্রিল ২০২৫, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
রপ্তানির নতুন দিগন্ত খুলে দিল সিলেট, মেক্সিকান কার্গো এয়ারলাইনসের যাত্রা শুরু
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ইতিহাস গড়ল সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রথমবারের মতো এই বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইটের যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে মেক্সিকান কার্গো এয়ারলাইনস, মাস এয়ার ও গ্যালিস্টেয়ারের যৌথ মালিকানাধীন একটি এয়ারবাস বিমান গার্মেন্টস পণ্যবোঝাই হয়ে স্পেনের উদ্দেশে উড়াল দেয়। এই যাত্রাকে সিলেটের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা।
ওসমানী বিমানবন্দরের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো কার্গো ফ্লাইট, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বাণিজ্যের সুযোগকে আরও প্রসারিত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আজ সিলেটের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতার পর ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো সিলেট থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু হলো। এটি শুধু একটি বিমান যাত্রা নয়, রপ্তানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”
তিনি আরও জানান, সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রপ্তানি ব্যয় ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত মাসের তুলনায় ইউরোপে রপ্তানি খরচ ৩৭% এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৩% কমেছে। তবে, তিনি এই সাফল্যকে আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই কার্গো ফ্লাইট চালু হওয়ায় সিলেটের ব্যবসায়ীরা নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। স্থানীয় রপ্তানিকারক মো. আবুল কালাম বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। এখন আমরা সরাসরি পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি আমদানিও করতে পারব। এই সেবা যাতে ধারাবাহিক থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।”
প্রথম এই কার্গো ফ্লাইটে ঢাকার এমজিএইচ গ্রুপ, অরিজিন সলিউশনসহ কয়েকটি কোম্পানির তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে। গত শনিবার ট্রাকযোগে পণ্য বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং রাত ৮টা ৫ মিনিটে বিমানটি স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া, মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান উপস্থিত ছিলেন।
এই কার্গো ফ্লাইট চালু হওয়ায় সিলেটের অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওসমানী বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই কার্গো ফ্লাইট তারই প্রথম ধাপ। ভবিষ্যতে আরও বিমান সংস্থাকে যুক্ত করে সিলেটকে রপ্তানির অন্যতম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সিলেটের আকাশে আজ শুধু একটি বিমান উড়ল না, উড়ল আশার নতুন ইঙ্গিত। এই যাত্রা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনই অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় ভরপুর। সরকার, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে এই অর্জনকে ধরে রাখতে পারলে সিলেট হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের আরেকটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র।