১২ জুলাই ২০২৫, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ড. রাগীব আলী মিলনায়তনে জুলাই মঞ্চ সিলেট জেলা শাখার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও চাঁদাবাজি বিরোধী ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। বিগত এক বছর বাংলাদেশজুড়ে গুম, খুন, চাঁদাবাজি, হত্যা, রাহাজানিসহ অসংখ্য অন্যায় অপকর্ম ঘটেছে। এর প্রতিবাদে বাংলার মানুষ রাস্তায় নেমে গণআন্দোলনের মুখে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশছাড়া করেছে। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশ হওয়ার কথা ছিল বৈষম্যমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত, হত্যাকাণ্ডমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ। কিন্তু অভ্যুত্থানের দশ মাস পেরিয়ে গেলেও সারা বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি বাজারে পূর্বের ন্যায় জুলুম, অন্যায়, অবিচার ও চাঁদাবাজি বহাল রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, নির্যাতন, নিপীড়ন এমনকি বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডও দেখতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই মঞ্চ সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক জোবায়ের আহমদ তোফায়েল লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলেও তারা সফল হতে পারছেন না। বিপ্লবের পক্ষের বড় শক্তিগুলোর অন্যতম দলের নেতা-কর্মীদের দেশব্যাপী চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন ও ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ পুরান ঢাকার ভাঙারী ব্যবসায়ী সোহাগ। চাঁদাবাজরা এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ও মানবতাবিরোধী হয়ে উঠেছে যে, চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী সোহাগকে প্রায় ৫ কেজি ওজনের পাথর দিয়ে বেশ কয়েকজন মিলে শরীরের প্রায় সব অংশে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার শরীরের উপর উঠে বুনো উল্লাস করেছে। এটি মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ী সোহাগের উপর যে নির্মমতা হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করেছে।
তারা বলেন, জুলাই মঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছে যে, নতুন বাংলাদেশে হত্যাকারী ও চাঁদাবাজদের কোন জায়গা হবে না। বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে হত্যাকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করে জুলাই মঞ্চ সারা বাংলাদেশে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বিলীন করতে বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি চাঁদাবাজ ও মানুষ হত্যাকারীদের যারা আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেবে, তাদের আস্তানা গুড়িয়ে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে জুলাই মঞ্চ। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন জনগণ দেখেছে, সেই স্বপ্ন নস্যাত করতে যারা ভূমিকা রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই মঞ্চের সংগ্রাম চালু আছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। পাশাপাশি, ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের উপযুক্ত বিচার জুলাই মঞ্চ দেখতে চায়। একই সাথে, বিগত ১১ মাসে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও চাঁদা না পেয়ে হত্যাকাণ্ডের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিটির বিচার যেন অনতিবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করে, সেই দাবি জানাচ্ছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই মঞ্চ সিলেট জেলা শাখার মুখপাত্র রুহুল আমিন জগলু, সুনামগঞ্জ জেলার মুখপাত্র উবায়দুল হক রাহাত, সিলেট জেলার মুখ্য সমন্বয়ক হারুন আর রশীদ, মুখ্য সংগঠক সাহেদ আহমদ ছামী, দপ্তর সম্পাদক আলী আহমদ তাজ, তথ্যচিত্র ধারণ প্রতিনিধি শামসুজ্জামান মাহবুব, অর্থ সম্পাদক আহমেদ লায়েক, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নাহাদুল করীম চৌধুরী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ওলী আহমদ, ফ্যাসিবাদী আমলা চিহ্নিতকরণ সমন্বয়ক ইয়াসিন আলী জয়, কার্যকরী সদস্য নোমান আহমদ ও তারমিম আহমদ প্রমুখ।