১২ মে ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের জালালাবাদ থানার পুলিশ চাঞ্চল্যকর শিশু ফাহিমা আক্তার (০৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গত ১১ মে ২০২৬ রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ পেয়ে জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. নূর উদ্দিন সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে থানার সোনাতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় তারা শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জাকির হোসেন (৩০) কে গ্রেফতার করেন। তার পিতা মৃত তোতা মিয়া ও মাতা মোছা. রুকিয়া বেগম। তার সাং সোনাতলা পশ্চিমপাড়া, ধন রায়েরচক, থানা জালালাবাদ, জেলা সিলেট।
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এবং মামলার আলামত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। পরে আসামিকে সঙ্গে নিয়ে বাদাঘাট থেকে শিবেরবাজার মধ্যবর্তী টেকেরবাড়ি এলাকার খাল থেকে ভিকটিম ফাহিমা আক্তারের লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত একটি ধূসর, সবুজ ও খয়েরি রঙের লম্বা স্ট্রাইপ দেওয়া চাদর (শাল) উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আসামির শয়নকক্ষের আলমারির ওপর থেকে একটি কালো সুটকেস এবং শয়নকক্ষের খাটের (পালং) নিচের মেঝে থেকে ভিকটিমের রক্তমাখা বালি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, গত ৬ মে ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টায় সে তার বসতঘরে ছিল। তখন ঘরে অন্য কেউ ছিল না। আসামি ভিকটিম ফাহিমা আক্তারকে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ির সামনের দোকান থেকে দুটি সিগারেট আনতে পাঠায়। ভিকটিম সিগারেট নিয়ে ঘরে ফিরলে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে আসামি শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ভিকটিমকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে গেলে আসামি গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে আসামি ভিকটিমের লাশ একটি শাল দিয়ে পেঁচিয়ে কালো লাগেজের ভেতর ভরে রাখে এবং লাগেজটি ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ক্যাবিনেটের ওপর লুকিয়ে রাখে। সে সুযোগ বুঝে লাশ বাইরে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে।
পরবর্তীতে আসামি ভিকটিমের লাশ লাগেজ থেকে বের করে তার শয়নকক্ষের খাটের নিচে মেঝের ওপর লুকিয়ে রাখে। গত ৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৪টায় আসামি ভিকটিমের লাশ ঘরের সামনে জনৈক নূরুল হক গংদের মালিকানাধীন ডোবার পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু লাশ ভেসে উঠায় আসামি সেটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে এবং উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেয়।
আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।