27 August 2026, 11:13 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, অননুমোদিত রং ব্যবহার, পোড়া তেল, লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণ এবং খাদ্য সংরক্ষণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সিলেট মহানগরীর দুটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ পারভেজ এর নেতৃত্বে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার হুমায়ুন চত্বর এলাকায় অবস্থিত নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্ট এবং কদমতলীর পাঠানপাড়া এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই বেকারীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এসময় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মেট্রোপলিটন কার্যালয়, সিলেট ও র্যাব-৯ এতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
অভিযানকালে ভাই ভাই বেকারীতে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে একাধিক গুরুতর অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। এ সময় পোড়া তেলের ব্যবহার, লবণে আয়োডিনের অনুপস্থিতি, লেবেলবিহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া বেকারির অভ্যন্তর অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। খাদ্যকর্মীদের কেউ কেউ খালি গায়ে এবং গ্লাভস ব্যবহার না করে সরাসরি খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করছিলেন। একই সঙ্গে খাদ্য প্রস্তুতে অননুমোদিত টেক্সটাইল কালার ব্যবহারের বিষয়টিও পরিলক্ষিত হয়।
বেকারির ভেতরের খোলা অংশে প্রয়োজনীয় নেট বা ঝালির ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকে মশা-মাছি ও ধুলাবালি সহজেই ভেতরে প্রবেশ করে খাদ্যদ্রব্য দূষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছিল।
এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে আদালত ভাই ভাই ফুড প্রোডাক্টস কে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে, হুমায়ুন চত্বরে অবস্থিত নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টে প্যাডেলবিহীন ও ঢাকনাবিহীন অপরিষ্কার ডাস্টবিন ব্যবহার করা হচ্ছে। রান্না করা খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ফ্রিজে কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া ফ্রিজের ভেতরে মাংসের রক্ত জমে বরফ হয়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায় এবং একই ফ্রিজে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য মাংস সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। খাদ্য প্রস্তুতের কাজে খবরের কাগজ ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু খাদ্যপকরণ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়।
অভিযানকালে আরও দেখা যায়, মুরগির বিষ্টাযুক্ত ডিম যথাযথভাবে পরিষ্কার বা ধোয়া ছাড়াই সরাসরি খাবার প্রস্তুতে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সার্বিকভাবে রেস্টুরেন্টটির খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর বলে পরিলক্ষিত হয়।
এসব অনিয়মের দায়ে নিউ শ্রমিক ড্রাইভার রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন মোবাইল কোর্ট।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোবাইল কোর্ট নিরাপদ খাদ্য আইন,২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে ০২ টি মামলা করেন এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ,অস্বাস্থ্যকর উপকরণ, অনুনোমোদিত খাদ্য উপকরণ,লেবেল ব্যাবহার না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে প্রতিষ্ঠান দুটিকে যথাক্রমে ২,০০,০০০/- ও ৫০,০০০/-, মোট ২,৫০০০০ (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।