6 August 2026, 4:23 PM
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিসিক যেভাবে কাজ করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালমাটিয়ায় সিসিকের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সিসিকের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) ঘুরে দেখেন এবং দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, এসটিএস এবং নির্মাণাধীন বায়োড্রায়িং প্ল্যান্টের বিভিন্ন দিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং খাল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিসিক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে আমি আশা করি।
তিনি বলেন, সিসিকের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেটে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এ প্ল্যান্ট চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন এবং বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy) গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ করা হয়। এর ফলে বর্জ্য উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের উপযোগী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মতো উচ্চ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ বর্জ্যের জন্য এ প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য এম এ মালিক, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।