৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমদ জগন্নাথপুরে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন এবং পরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সোমবার ২ মার্চ দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার বৃহৎ নলুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তের ভূরাখালি এলাকায় ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর পিআইসি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে ভূরাখালি বাজারে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
এমপি কয়ছর এম আহমদ বলেন, সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে। তিনি স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রতি বছর নতুন করে বাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে হাওরের কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা পান।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন এবং সত্যকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল, কৃষক নেতা সাইদুর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শেখ ফরিদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বক্তব্য দেন।
সভায় জানানো হয়, জগন্নাথপুর উপজেলায় বোরো ফসল রক্ষায় ৩৭টি পিআইসি কমিটির মাধ্যমে প্রায় ১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় বক্তারা হাওরে মাটি সংকট, বরাদ্দ সংক্রান্ত জটিলতা এবং কিছু প্রকল্পে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।
এর আগে এমপি কয়ছর এম আহমদ ভূরাখালি গ্রামে অবস্থিত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের বাড়িতে কিছু সময় অবস্থান করেন। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মতে, এ সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
হাওর অঞ্চলের কৃষি নির্ভর মানুষের প্রত্যাশা এখন সময়মতো বাঁধ সম্পন্ন হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়ন। কৃষকের ঘরে ফসল উঠলে তবেই গ্রাম বাঁচবে, আর গ্রাম বাঁচলেই দেশের অর্থনীতির ভিত আরও শক্ত হবে।