৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সিলেটে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সম্মেলন কক্ষে তথ্য অধিদফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় গণমাধ্যমের দায়িত্ব, ভূমিকা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নিজামূল কবীর বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশকে সঠিক পথ দেখায়। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাদারিত্ব, সততা ও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনাই জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিদফতর গণভোট ও নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সচেতনতামূলক কনটেন্ট, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, থিম সং, বিভাগীয় সংগীত এবং পোস্টাল ব্যালট বিষয়ক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সেমিনার, কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান তথ্য অফিসার জানান, গণভোটকে ঘিরে তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এই আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সমাজের সব স্তরকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, গণভোট কী, কেন এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হবে সহজ ভাষায় নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব, নিয়মকানুন এবং আচরণবিধি জনগণের কাছে তুলে ধরা, যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপপ্রধান তথ্য অফিসার হাছিনা আক্তার। এতে অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী এবং উপপ্রধান তথ্য অফিসার নাসরীন জাহান লিপি ও মোল্লা আহমদ কুতুবুদ দ্বীন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সেশন পরিচালনা করেন। এছাড়া সিনিয়র তথ্য অফিসার কে এম খালিদ বিন জামান, তাহমিনা আক্তার, তথ্য অফিসার বিথী আক্তার এবং সিলেট জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রকিবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তাদের মতামত ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে সঠিক তথ্য পরিবেশন, গুজব প্রতিরোধ এবং ভোটারদের আস্থা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব।
সত্যনিষ্ঠ সংবাদ ও দায়িত্বশীল কলমই পারে জনগণের বিবেক জাগ্রত করতে, আর সেই শক্তিতেই গণতন্ত্র এগিয়ে যায় আলোর পথে।