শনিবার, ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭ মে ২০২৫, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস শুধুই এক ব্যক্তির মুক্তির রায় নয়, এটি এক ইতিহাস সংশোধনের ঘোষণা

আপডেট টাইম : মে ২৭, ২০২৫ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

আব্দুল আহাদ: প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ-এর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ আজ প্রমাণ করল, বিচার ব্যবস্থা যখন ন্যায়ের পথ অনুসরণ করে, তখন সত্য ফিরে আসে—যত দেরিতেই হোক।

এই রায়ে আদালত সাফ জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষিত হয়েছে, প্রমাণ ছিল দুর্বল, তদন্ত ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। আদালতের ভাষায়, এ ছিল ‘গ্রস মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’—অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থার ভয়ংকর ব্যর্থতা।

এই মুহূর্তে জাতি স্মরণ করছে সেইসব রায়, যেগুলো এক দশক আগের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাসেম আলী, আব্দুল কাদের মোল্লা—এই মানুষগুলোকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল ত্রুটিপূর্ণ, পক্ষপাতদুষ্ট, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ায়। তাদের বিরুদ্ধে যেসব প্রমাণ ছিল, সেসব ছিল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অগ্রহণযোগ্য, অনির্ভরযোগ্য ও অনেক সময়ই জালিয়াতির অভিযোগে কলুষিত। কিন্তু তখনকার সরকার চেয়েছিল একটাই—রাজনৈতিক প্রতিশোধ। এটি ছিল বিচার ব্যবস্থার ছদ্মবেশে রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ।

আজহারুল ইসলামের খালাস আমাদের কেবল অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয় না, এটি আমাদের বাধ্য করে প্রশ্ন তুলতে—সেই ফাঁসিকাঠে ঝুলে যাওয়া মানুষগুলো কি প্রকৃত অপরাধী ছিলেন, নাকি রাষ্ট্রের প্রতিহিংসার শিকার? এই রায়ের মাধ্যমে আমাদের দাবি আরও দৃঢ় হলো—সেই সব বিতর্কিত মামলাগুলোর পুনঃপর্যালোচনা করতে হবে। যারা ফাঁসিতে ঝুলেছেন, তাদের স্মৃতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। ইতিহাস ও মানবতার প্রতি এই জাতির ঋণ রয়ে গেছে।

বর্তমান সরকার এবং আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আজকের আপিল বিভাগ এই অন্যায় সংশোধনের পথ দেখাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। বিচারব্যবস্থাকে যেন আর কোনোদিন রাজনৈতিক স্বার্থের যন্ত্রে পরিণত না হতে হয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতের যেকোনো সরকার এই সাহসিকতা ও ন্যায়ের অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যারা বিচার ব্যবস্থার নামে রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—তৎকালীন বিচারক, তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর, রাজনৈতিক নির্দেশদাতারা—তাদের আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তবেই রাষ্ট্র তার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে পারবে।

আজ ন্যায়বিচার ফিরে এসেছে। কিন্তু ন্যায় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন ইতিহাস সংশোধিত হয়, নির্দোষেরা তাদের সম্মান ফিরে পায়, এবং অন্যায়কারীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হয়।

লিখেছেন—সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, নিউইয়র্ক।

শেয়ার করুন