শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১১ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

নবীন-প্রবীণ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা,প্রচারণা ও গুঞ্জন ১৭ প্রার্থীর

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১১, ২০২৩ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেট-৪ আসনে সক্রিয় আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী,মাঠে নেই বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে।আওয়ামীলীগ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।অপরদিকে বিএনপি,জামায়াত,সিপিবি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবেনা বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।তারা অবাধ,নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন করছে।তারপরও বসে নেই সম্ভাব্য এম পি পদপ্রার্থীগণ।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জেলার ৬ টি সংসদীয় আসনে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন প্রার্থীরা।অবিরাম ছুটছেন পাড়ায় মহল্লায়, কড়া নাড়ছেন ভোটারদের দরজায়।সিলেট -৪ সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর খোঁজ মিলেছে।ভোটের রাজনীতিতে মাঠে বিএনপি’র প্রার্থীদের সরব না থাকলেও আওয়ামীলীগ ও জামায়াত প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।বিএনপি ভাল প্রার্থী বাছাই করতে ভূল করলে চিরতরে এ আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে অনেকেই মনে করছেন।জামায়াত প্রার্থীর সক্রিয়তা এবং আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিরাট একটি অ়ংশের উপর তার প্রভাব আগামী দিনে এ আসনটি জামায়াতের দখলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।তবে আওয়ামীলীগের দুর্গ বলে খ্যাত এ আসনটিকে যেকোন ভাবে ধরে রাখতে চায় দলটি।

সিলেট-৪ আসন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জনপদ।প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সংসদীয় আসনের পুরো এলাকাটিই পর্যটন সমৃদ্ধ। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এটি নান্দনিকতায় ভরপুর।এখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হয় সরকারের।বহুবিধ কারণে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের দিকে বিশেষ নজর থাকে সকলের।এ আসনটিতে আগামী নির্বাচনে কাকে চায় জনগন তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।ক্ষমতাসীন দল আওয়ামিলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী প্রচারণা চালালেও নীরব রয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দুই প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন দলীয় সিগনাল প্রাপ্ত সম্ভাব্য প্রার্থী। জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ এই পর্যন্ত সম্ভাব্য ১৬ জন প্রার্থীর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত আসনটিতে আওয়ামিলীগ ৭ বার বিএনপি  ৩ বার,জাপা ২ বার ও ১ বার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি,ব্যবসায়ী গোলাপ মিয়া,সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ও সিলেট জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট শাহজাহান চৌধুরী,শ্রমিক লীগ নেতা নাজমুল আলম রুমেন, বিএনপি থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,বিএনপি’র প্রয়াত এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী এডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম,লন্ডন বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দীন,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম চৌধুরী,এডভোকেট কামরুজ্জামান সেলিম,জামায়াত থেকে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব জয়নাল আবেদীন,প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার আবু সাদাত মো. সুহেল(ডালিম),জাতীয় পার্টি থেকে এ টি ইউ তাজ রহমান, সাংবাদিক মুজিবর রহমান ডালিম,স্বতন্ত্র থেকে বিএনপির সাবেক নেতা এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান,জমিয়ত থেকে মাওলানা আতাউর রহমান,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মুফতী সাঈদ আহমদ প্রমুখের নাম শোনা যাচ্ছে।খেলাফত মজলিস,বাসদ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায় নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,হাট বাজার,রাস্তাঘাটে, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের ডালে আওয়ামীলীগের ইমরান আহমদ,এডভোকেট মাহফুজুর রহমান,গোলাপ মিয়া,জাপার সাংবাদিক মুজিবুর রহমান ডালিম,জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের পোস্টার ঝুলছে।এলাকার মানুষের সাথে আলাপকালে জানা যায়,এ আসনে বর্তমান এমপি ইমরান আহমদের বিকল্প হিসেবে তারা আপাতত অন্য কাউকে নিয়ে ভাবছেন না।পাথর কোয়ারী বন্ধ,রাস্তা ঘাটের ভগ্নদশা হলেও বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনামলে দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে। হাইটেক পার্ক, ইকোনমিক জোন,ফায়ার সার্ভিস, ভূমিহীনদের গৃহ ও জমি প্রদান,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণসহ অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে।সম্পদের চেয়ে কাংখিত উন্নয়ন না ঘটলেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে আওয়ামী বলয়ের বাইরে যেতে চাচ্ছেন না অনেক ভোটার।আবার কোন কোন ভোটারদের মতে,জনগনের নাগরিক সুবিধাসহ কাংখিত উন্নয়ন না হওয়ায় আসনটিতে নতুন মুখ হিসেবে অন্য কাউকে দেখতে চায়। তাদের মতে প্রার্থী পরিবর্তন হলে,ক্ষমতা পরিবর্তন হবে। আর ক্ষমতা পরিবর্তন হলে কাংখিত উন্নয়ন পাওয়া যাবে।

ইমরান আহমদ ছয় বারের এমপি।নির্বাচনী রাজনীতিতে তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী।একটি সুত্র জানায়,এডভোকেট শাহজাহান চৌধুরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।আওয়ামীলীগ ইমরান আহমদকে প্রার্থী চুড়ান্ত করলে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে গণভবনে ডেকে নিয়ে যান।এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।অপরদিকে বিএনপি নেতা দিলদার হোসেন সেলিমের শূন্যতা অনুভব করছে বিশাল জনগোষ্ঠী।তরুণ ভোটারদের সাথে আলাপকালে জানা যায়,বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী অথবা জামায়াতের জয়নাল আবেদীন হতে পারেন দিলদার হোসেন সেলিমের বিকল্প।আরিফুল হক চৌধুরী একাধিকবারের সিটি মেয়র ও জয়নাল আবেদীন জৈন্তাপুরের দুই বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান।জয়নাল দীর্ঘদিন থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যেতে পারে জামায়াত। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ,বিএনপি, জাপার বরাবর একাধিক প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়নের জন্য নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন ধরণের প্রচার প্রচারণা চালান।এবার জামায়াতেও তা দেখা মিলেছে।ব্যারিস্টার আবু সাদাত মো.সুহেল(ডালিম) জামায়াত ঘরানার প্রবাসী কমিউনিটি নেতা।ছাত্রজীবনে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।বিএনপি’র লন্ডন কানেকশন সায় দিলে তিনিও চমক দেখাতে পারেন বলে খবর মিলেছে।

আগামী সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে বিশাল প্রভাব পড়বে। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক নেই,বিএনপি জোট থেকে সরে দাঁড়ানো সব মিলিয়ে ভোটের হিসাব নিকাশ কোনদিকে মোড় নিবে তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যেই চলছে আলাপ আলোচনা,নানা গুঞ্জন। দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট প্রায় দুই যুগ থেকে দলগত ভাবে নির্বাচন করে আসছে।সাম্প্রতিক কালে বিএনপির জোটে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।বিএনপির বড় অংশীদার জামাত জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।এবং সারাদেশে বিভিন্ন আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে বিএনপি ভালো প্রার্থী দিলে এই আসনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে।বিশ্বস্থ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে,দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী জোর লবিং করছেন।তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি সিলেট সিটিতে মেয়র ইলেকশনে অংশ নেননি।সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলে অথবা বিএনপি ভালো প্রার্থী দিতে পারলে আওয়ামীলীগ হেরে যাবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।এ আসনে বরাবর বাহিরের বড় বড় নেতারা এমপি হয়েছেন। জামায়াত এ আসন নিয়ে স্বপ্ন দেখলেও বিএনপি’র সাথে জোট আর জোট সমর্থন না দিলে জামায়াত সুবিধা করতে পারবে না বলে অনেকের ধারণা।তাছাড়া ১৯৯৬ এর নির্বাচনে জামায়াত জমিয়তের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে।গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল,বিশাল সংখ্যক কাওমী মাদ্রাসার আলেমদের জামায়াত বিরোধিতাসহ বিএনপি’র উপর ভর করে চলা নীতি পেছনে ফেলে দিবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী এবছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।তবে রাজনীতিতে যেকোন সময় নয়া মেরুকরণও ঘটতে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন।দলগুলোর জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, আওয়ামীলীগ জাতীয় নির্বাচন,বিএনপি গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত।অপরদিকে জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাবে না।তবে তাদের এই সিদ্ধান্ত যে কোন সময় পরিবর্তন হতে পারে বলে দলীয় একটি সুত্র তা নিশ্চিত করেছে।

শেয়ার করুন