৯ এপ্রিল ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি : নারী নেতৃত্বের বিকাশে অনন্য অবদান ও দীর্ঘ সংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে সিলেটের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আছেন অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ঘটিয়ে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সিলেটের নারী জাগরণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছেন।
নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে সামিয়া বেগম চৌধুরী সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে ছাত্রদলের গোড়াপত্তন করেন। ১৯৯১-৯২ মেয়াদে তিনি কলেজ ছাত্রীসংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২-৯৩ মেয়াদে ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঐ কলেজে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে সিলেট জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৪ সালে সিলেট বিভাগে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি সিলেটে মোট চারটি মহিলা দলের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক থাকাকালে হবিগঞ্জেও সম্মেলন করেন। এসব সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমানের উপস্থিতি দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ রাখে। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গঠিত চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার সিলেট বিভাগীয় সদস্য সচিব হিসেবে ১৭ জুন ২০২৩ ব্যাপক সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
সামিয়া বেগম চৌধুরী আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বদা অগ্রভাগে থেকেছেন। ২০১৩ সালে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটক হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর বাড়িতে সাদা পোশাকে একাধিকবার গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয় এবং নির্বাচনের শেষ প্রচারণার দিন ২৭ ডিসেম্বর তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদরকে গ্রেফতার করা হয়। তবুও তিনি ভয় উপেক্ষা করে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে এজেন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিগত জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর অভ্যুত্থানেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। ৩ আগস্ট সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর নির্ভীক উপস্থিতি ও বক্তব্য হাজারো বিক্ষোভকারী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিগত ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গৃহীত ৩১ দফার উপর অনুষ্ঠিত মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি তা সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। উক্ত প্রশিক্ষণটিতে বিএনপির মাননীয় চেয়ারপার্সন ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে তাঁদের উৎসাহিত করেন। এই উদ্যোগ সিলেটের জনগণের কাছে দলটির সংস্কার এজেন্ডা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পেশাগত জীবনে তিনি ২০০৬ সালে মদন মোহন কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি ইডেন গার্ডেন স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষাবিস্তারে অবদান রাখছেন। রাজনীতির বাইরে তিনি ‘উইমেন ফর উইমেন রাইটস’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলাদেশ মহিলা অধিদপ্তর থেকে অনুমোদিত। এছাড়া তিনি ইউকেএইড এর অর্থায়নে পরিচালিত ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র রাজনৈতিক ফেলো ও মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় প্রায় পাঁচশ নারী-পুরুষকে রাজনৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তিনি সিলেট রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও মুসলিম সাহিত্য সংসদের আজীবন সদস্য। এছাড়া দি সিলেট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সক্রিয় সদস্য হিসেবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত।
সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে সিলেটে ব্যাপক প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি বিরোধী পক্ষের নারী বিদ্বেষী মনোভাব মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরেন। অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলে তিনি সিলেটের নারী-পুরুষের অধিকার ও উন্নয়নে আরও গতিশীল ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর সিলেট-১ আসনের সাবেক বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মিডিয়া সেন্টারের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁকে নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণার ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করেছে।
দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাশা। সিলেটের নারীরা আশা করছেন, সামিয়া বেগম চৌধুরীর নেতৃত্বে সংরক্ষিত আসনটি পাবে একজন দক্ষ, সাহসী ও সংগঠন-বান্ধব প্রতিনিধি।