১১ মে ২০২৫, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
এমরান আহমদ: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা সহ অন্যান্য স্থানে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে সিলেট নগরীতে এক বড় ধরনের গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ মে) বিকেল ৩টায় নগরীর চৌহাট্টা এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ সমাবেশ হয়। জুলাই জাতীয় ঐক্য-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
প্রথমে কর্মসূচি বিকেল ৩টায় নির্ধারিত থাকলেও দুপুর আড়াইটা থেকেই লোকজন জমায়েত হতে শুরু করেন। বিকেল নাগাদ হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কের একপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়।
গণজমায়েতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে বিচার ও দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন।
বক্তারা বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশবাসীর ঘুম হারাম করেছে। তারা বিরোধী নেতাদের হত্যা, গুম ও জুলুমের মাধ্যমে রাজনীতি চালিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। জুলাইয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীদের অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে। যারা তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমরা আর এই অবৈধ গোষ্ঠীকে রাজনীতি করতে দেব না।”
সমাবেশে “হ-তে হাসিনা তুই খুনী”, “ক-তে কাদের তুই খুনী”, “ব্যান ব্যান আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ”, “আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না”—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চৌহাট্টা মোড়।
আন্দোলন চলাকালে রাত ৮টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাত ১১টায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, “আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার না হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।”
এ ঘোষণার পর সিলেটে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা আবারো চৌহাট্টায় জমায়েত হয়ে বিজয় মিছিল বের করেন। মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট, বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার, দরগাহ গেট, আম্বরখানা হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও স্লোগানে আকাশপ্রান্ত মুখরিত হয়ে ওঠে।