৫ জুলাই ২০২৩, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
মোহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন
আমরা সৌরজগতের বাসিন্দা। সূর্য একটি মাঝারি আকৃতির নক্ষত্র। নক্ষত্রের নিজস্ব জ্যোতি ও তাপ রয়েছে। মহাকাশে অজ¯্র নক্ষত্র রয়েছে। সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র ‘প্রক্সিমা সেন্টারাই’। সূর্য থেকে এর দূরত্ব ৪২ আলোকবর্ষ (প্রায়)। সূর্য (নক্ষত্র) গ্যালাক্সির বাসিন্দা। আমাদের গ্যালাক্সির নাম ‘মিল্কিওয়ে’। মিল্কিওয়েকে আকাশ গঙ্গা বা ছায়াপথও বলা হয়। বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ইত্যাদি সূর্যের গ্রহ। বৃহস্পতি সবচেয়ে বড় গ্রহ। অনেক গ্রহের উপগ্রহ রয়েছে। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। শনির ৭৯টি এবং বৃহস্পতির ৮২টি উপগ্রহ রয়েছে। সূর্য তার গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কা, ধুমকেতু ইত্যাদি নিয়ে সৌরজগৎ গঠিত। সূর্য তার অধিক্ষেত্রের বস্তু সমূহ নিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ২২০ কি.মি. গতিতে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চতুর্দিকে নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র। সূর্য তার মধ্যে অন্যতম। সূর্য প্রায় আড়াই কোটি বছরে মিল্কিওয়ে গ্যলাক্সির কেন্দ্রকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এ পর্যন্ত সূর্য প্রায় ২০ বার মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করেছে মর্মে অনুমান করা হয়।
গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের বাসিন্দা। মহাবিশ্বে অগণিত গ্যালাক্সি রয়েছে। আমাদের নিকটতম গ্যালাক্সির নাম ‘এন্ডোমিডা’। মিল্কিওয়ে থেকে এর দূরত্ব ২৬ লক্ষ ৫০ হাজার আলোকবর্ষ (প্রায়)। আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার বা ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল। এ গতিতে আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে। গ্যালাক্সিগুলোও নির্দিষ্ট গতিতে কোনো লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। ইহা বিজ্ঞানীদের ধারণা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়া এর ৩৩নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহতালাই রাত, দিন, সুরুজ ও চাঁদ পয়দা করেছেন; এরা প্রত্যেকেই কক্ষপথে সাঁতার কেটে যাচ্ছে।’ ১৪শ বছর পূর্বে পবিত্র কোরআন নাযিল হয়। পৃথিবী ঘুরে না কী সূর্য ঘুরে? ঐ সময়ের লোকদের এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না। আজ বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে, মহাবিশ্বের সবগুলো বস্তুই গতিশীল। কোরআনের সাথে বিজ্ঞানের ধারণা আজ হুবহু মিলে যাচ্ছে।
মিল্কিওয়ে সর্পিলাকার গ্যালাক্সি। এর অনেকগুলো বাহু রয়েছে। সূর্য মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ‘অরিয়ন সিগনাস আরম’ নামক ক্ষুদ্র বাহুতে অবস্থিত। সূর্য তার কক্ষপথে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বহু স্থান অতিক্রম করতে হয়। সূর্য তার অধি::ক্ষেত্র অর্থাৎ গ্রহ উপগ্রহ ইত্যাদি নিয়ে অবিরাম চলছে। পৃথিবী সূর্যের অন্যতম গ্রহ। আমরা এ গ্রহে বাস করি। তার মানে সূর্যের সাথে আমরাও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চারপাশে ঘুরছি। কিন্তু এ সন্তরণ আমরা বুঝি না। একটি প্লেন যাত্রী নিয়ে দূর দূরান্তে আকাশ পথে চলে। প্লেনের ভেতর যাত্রী, চালক ও অন্যান্য জিনিসপত্র থাকে। যাত্রীরা সাধারণত আসনে বসে থাকেন। মালামাল স্ব স্ব স্থানে রাখা হয়। যাত্রী ও মালামাল প্লেনের ভেতর গতিশীল নয়। স্থির অবস্থায় থাকে। যাত্রীরা একে অন্যকে প্লেনের মধ্যে স্থির অবস্থায় দেখতে পায়। প্লেনের সাপেক্ষে যাত্রী ও মালামাল স্থির। কিন্তু প্লেন আকাশ পথে বিভিন্ন দেশ ও জলাশয়ের উপর দিয়ে গতিশীল। বাইরের জগতের (স্থানের) সাপেক্ষে প্লেনটি গতিশীল। প্রচন্ড গতিশীল। ভেতরের যাত্রীরা এ গতিবেগ টেরই পান না।
একইভাবে মহাকাশের সাপেক্ষে সূর্য গতিশীল। সূর্যের অধিঃক্ষেত্রের ভেতর পৃথিবী তথা আমরা অবস্থান করায় এ গতিবেগ বুঝি না।
সূর্য গ্যালাক্সিকে কেন্দ্র করে সন্তরণকালে আমরা (সূর্যের অধিঃক্ষেত্রের ব্যক্তি ও বস্তুসমূহ) একেক সময় মহাশূন্যের একেক স্থানে অবস্থান করি। আমরা সাধারণত দেখি, আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছি। আমাদের স্বজন, বাড়িঘর, বিষয় সম্পত্তি সবকিছুই ঠিকটাক রয়েছে। কিন্তু আমাদের বহিরাবরণ (সৌরজগতের পরিসীমা) মহাশূন্যের কোন স্থান থেকে কোন স্থানে বিচরণ করছে, সে খবর কী আমরা রাখি? তাই ভেবে দেখা প্রয়োজন, আমরা মহাশূন্যের কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছি। পবিত্র কোরআনের সূরা ক্বাফ এর ০৬নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এ লোকগুলো কী কখনো তাদের ওপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনি, কীভাবে তা আমি বানিয়ে রেখেছি এবং কীভাবে আমি তাকে সাজিয়ে রেখেছি, কই, এর কোথাওতো কোনো ফাটল নেই’। এখানে মহাকাশ নিয়ে আমাদেরকে চিন্তা ও গবেষণা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মহাবিশ্বের সকল স্থান সমান নয়। পৃথিবী সূর্যকে উপবৃত্তাকার পথে প্রতি সেকেন্ডে ৩০ কি.মি. বেগে প্রদক্ষিণ করছে। ইহাকে পৃথিবীর বার্ষিক গতি বলে। বার্ষিক গতির ফলে পৃথিবীতে ঋতুর পরিবর্তন হয়। ঋতুগুলো স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হয় ধরণী বুকে। পরিবর্তন করে ভূ-পৃষ্ঠের চেহারাসহ আরো কতকিছু। একইভাবে সূর্য গ্যালাক্সির চতুর্দিকে সন্তরণকালে তার কক্ষপথের বিভিন্ন স্থান সৌরজগতের বহিঃরাবরণে প্রভাব ফেলতে পারে যা আমাদের অজানা।
লেখক : কলামিস্ট।