বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪ জুন ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ

সিলেটের জৈন্তাপুরে জলবায়ু সহনশীল আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার জমকালো উদ্বোধন

আপডেট টাইম : জুন ৪, ২০২৬ ৪:০২ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্থানীয় কৃষিখাতকে আরও আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় একটি অনন্য কৃষি মেলার সূচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি অফিস সংলগ্ন মাঠে তিন দিনব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের বিশেষ সহায়তায় আয়োজিত এই মেলাটির শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদারের সুনিপুণ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বের চমৎকার সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসাইন। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষির সমৃদ্ধি কামনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এন ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক, স্থানীয় সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবদুল হাফিজ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আজিজুল হক খোকন, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারওয়ার বিলাল এবং বিয়াম ডাক্তার কুদরত উল্লাহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান। বক্তারা তাদের বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সুপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যতিক্রমী এই প্রদর্শনীতে মোট ১৩টি সুসজ্জিত স্টল অংশ নিয়েছে যেখানে উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশক, আধুনিক চারা উৎপাদন কৌশল ও বৈচিত্র্যময় ফসলের উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মেলাজুড়ে আগত দর্শনার্থী ও কৃষকদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিতে উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম খানসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুনাংশ দাশ, ভানু চন্দ্র নাথ, সমর মোহন ধর, নোমান আহমদ, কামরুন নাহার, সোহেব আহমদ, মোহাম্মদ জাবেল খলিল চৌধুরী, সানজিদা ইসরাত, সাহাব উদ্দিন, দেলোয়ার হোসাইন, মোর্শেদা আক্তার, মোহাম্মদ সালেহ আহমদ, তামান্না আক্তার ও মামুনুর রশিদ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রকৃতির বৈরিতাকে জয় করে মাটির বুক চিরে সোনালী ফসল ফলানোর এই আধুনিক প্রয়াস স্থানীয় কৃষকদের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলেছে। সরকারি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের এই সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ যেন মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কৃষকের শ্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ এবং লাভজনক করে তোলার এক অনন্য অঙ্গীকার। প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন আমাদের অন্নদাতাদের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিকে এক নতুন ও টেকসই উচ্চতায় নিয়ে যাবে যা প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে স্বস্তি ও সমৃদ্ধির এক পরম অনুভূতির সৃষ্টি করে।

শেয়ার করুন