২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছাড়া ব্যক্তির একক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি মজবুত করে একক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ ভোটের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার ২৪ জানুয়ারি সিলেট নগরীর বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, অতীতে একজন ব্যক্তি ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সংবিধানকে নিজের ইচ্ছামতো বারবার সংশোধন করেছিল এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে সংবিধানকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। এ ধরনের ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে দূর করতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অন্তর্বর্তী সরকারের একক কোনো উদ্যোগ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি সব রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনা, পর্যালোচনা এবং বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জিত ঐকমত্যের সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া ছাত্র জনতার প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রচারণায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না এমন কোনো বিধান নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার নজির রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই বাংলাদেশেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হলে মুক্তিযুদ্ধ মুছে দেওয়া হবে এবং সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ তুলে দেওয়া হবে এমন গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সংগঠিত হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং জুলাই সনদ মূলত একাত্তরের চেতনাকে সমুন্নত রাখার সনদ। তিনি এ সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, গণভোটে প্রত্যেককে একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে, হয় হ্যাঁ নয় না। তিনি বলেন, কোন পক্ষ বেছে নিলে দেশ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে মুক্ত থাকবে এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে আবারও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হবে না, সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের বিজয় নিশ্চিত করাকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ। সভায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, এনজিও প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।