,

13 September 2026, 1:19 PM

হেবা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর, নতুন আইনে হেবাকে অকার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে: ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স

আপডেট টাইম : September 13, 2026 1:19 PM



শেয়ার করুন

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। সংগঠনটির দাবি, নতুন আইনের মাধ্যমে হেবা সম্পন্ন না করেও হেবার প্রায় সব কার্যকারিতা প্রয়োগের একটি পৃথক সম্পত্তি হস্তান্তরব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে ১নং যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেল সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ সালিম আহমদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্যাডে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি যশোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি না পড়ে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা কারও নেই এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হেবা বা অন্য কোনো ধর্মীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ আইন কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

তবে আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স বলেছে, নতুন আইনে এমন একটি সম্পত্তি হস্তান্তরব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দাতা সম্পত্তি দান করার পরও নিজের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। সংগঠনটির মতে, মুসলিম আইনের দৃষ্টিতে এটিকে বৈধ হেবা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলিম আইনে হেবার বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি হলো কবজা বা দখল হস্তান্তর। হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রহীতাকে সম্পত্তির ওপর কার্যকর দখল ও নিয়ন্ত্রণ দিতে হয়। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় দাতা যদি নিজের জন্য আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করেন এবং গ্রহীতা কার্যকরভাবে সম্পত্তির দখল ও মালিকানা প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে সেটিকে হেবা হিসেবে অভিহিত করা যায় না।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের দাবি, মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী হেবা বৈধভাবে সম্পন্ন না হলে সম্পত্তির মালিকানা দাতার কাছেই থাকে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তা উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তির অংশ হয়। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের অধীনে এ ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা তাঁদের নির্ধারিত অংশ দাবি করতে পারবেন না—এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে সংগঠনটি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২২এ(১) উপধারার উল্লেখ করে বলেছে, সেখানে “Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force” বলা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যমান অন্য কোনো আইনের সঙ্গে সংঘাত দেখা দিলে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে তারা।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের দাবি, হেবা আইনকে সরাসরি বাতিল না করলেও এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবে হেবার শর্তকে পাশ কাটিয়ে মুসলিম উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং বিজ্ঞ মুফতিদের পরামর্শের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। অন্যথায় এ আইন কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন হিসেবে সাব্যস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।

শেয়ার করুন