৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে একটি সাম্যভিত্তিক, শোষণমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই এখন সময়ের দাবি।
সোমবার ৯ মার্চ দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আজ থেকে ৫৫ বছর আগে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একটি স্বাধীন মানচিত্র এবং লাল সবুজের গৌরবময় পতাকা। তবে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
সভা পরিচালনা করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সাইদা পারভীন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সুবর্ণা সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মাসুদ রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্মাসন সিংহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গৌতম দেব, প্রবীণ সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব এবং বাসস প্রতিনিধি সেলিম আউয়াল।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, পুলিশ, র্যাব, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তারা এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী সকল মানুষের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আজ দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ এবং বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সভা শেষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের গৃহীত কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার মহান চেতনা তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং অধিকার নিয়ে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে।