,

5 March 2026, 12:45 AM

সিলেটে বিভাগীয় পর্যায়ে অদম্য নারীদের সম্মাননা প্রদান সম্পন্ন

আপডেট টাইম : March 5, 2026 12:45 AM



শেয়ার করুন

জীবনসংগ্রামে সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নারীদের স্বীকৃতি জানাতে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা নারীদের এই সম্মাননা তাদের সাহস, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সমাজে নারীর মর্যাদা ও অবদান তুলে ধরে বুধবার ৪ মার্চ বেলা ১১টায় সিলেট নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহ এলাকায় অবস্থিত জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী।

তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছে। দেশের নারীরা আজ তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও দক্ষতার মাধ্যমে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই অগ্রগতি দেশ ও নারী সমাজের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, নারীরা একা এগিয়ে যেতে পারেন না, তাদের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও সমাজের পুরুষ সদস্যদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজের নানা বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যারা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন, তাদের অদম্য সাহস ও আত্মবিশ্বাস অন্য নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে।

তিনি নারীদের আরও স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং নারী পুরুষ একসঙ্গে কাজ করে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সিলেটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ের সংগ্রামী নারীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর জীবনযুদ্ধে জয়ী নারীদের স্বীকৃতি প্রদান করা হয় অদম্য নারী পুরস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে।

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আশিক উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন মহিলা অধিদপ্তর সিলেটের চাইল্ড রাইটস অফিসার প্রিয়াংকা দাস রায় এবং জেলা কালচার অফিসার জ্যোতি সিনহা।

এ বছর বিভাগীয় পর্যায়ে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে অদম্য নারী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কলসুমা বেগম, যিনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোছাম্মৎ আমিনা বেগম, সফল জননী হিসেবে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মোছা. রহিমা বেগম, নির্যাতনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে একই উপজেলার কাঞ্চন বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য সিলেট নগরীর রিফাত আরা রিফা সম্মাননা লাভ করেন।

বিজয়ীদের হাতে প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ সম্মাননা ক্রেস্ট, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং সনদপত্র তুলে দেন।

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান মৌলভীবাজারের সায়রা বেগম, সিলেটের চিরশ্রী পৈত্য, সিলেটের গুলরাজ বেগম, মৌলভীবাজারের আয়শা আক্তার মুক্তা এবং সুনামগঞ্জের খাদিজা বেগম। তাদের প্রত্যেককে নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে নারীরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। প্রশাসন, রাজনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল নানা ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপ্রচেষ্টায় নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে। সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেদের অবদান আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

সংগ্রাম আর আত্মবিশ্বাসের শক্তিতে এগিয়ে চলা এসব নারীর গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং তা পুরো সমাজকে আলোকিত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই পথচলা আগামী দিনের নারী প্রজন্মকে সাহস, আশা ও সম্ভাবনার নতুন আলো দেখাবে।

শেয়ার করুন