28 February 2026, 2:19 AM
নিকেশ বৈদ্য:-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রয়াত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমিতে মাটি ভরাটের কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধের জেরে পরিস্থিতি জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগকারী পক্ষ জানায়, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খান সরকারিভাবে ৯৯ বছরের জন্য ১০ শতক জমি বন্দোবস্ত পান। সংশ্লিষ্ট জমিটি জগন্নাথপুর থানার গন্ধর্বপুর মৌজার অন্তর্ভুক্ত এবং সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী তা তার নামে নামজারি করা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা জমিতে বসবাস অব্যাহত রাখেন। সম্প্রতি তার ছেলে আবদুল গফ্ফার খান নিজের অংশে থাকা পুরোনো একটি দোকানঘর ভেঙে সেটি বড় আকারে নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে আবদুল গফ্ফার খান ইসলামপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনকে বিবাদী করে জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
আবদুল গফ্ফার খান দাবি করেন, তার পিতার নামে বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বসবাস করছেন। পূর্বে সেখানে দোকানঘর ছিল, সেটি বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি জমি সংক্রান্ত কোনো সরকারি বিষয় থাকে, তা প্রশাসন দেখবে। স্থানীয়ভাবে বলপ্রয়োগ করে কাজ বন্ধ করা আইনসম্মত নয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্থানে আগে বাজারঘাট ছিল এবং বিষয়টি সরকারি জায়গা হওয়ায় তারা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে জমির মালিকানা ও বন্দোবস্ত সংক্রান্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ঘিরে এমন বিরোধ স্থানীয়দের মধ্যেও দুঃখের কারণ হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানই এখন এলাকার সবার প্রত্যাশা।