15 February 2026, 9:01 PM
সিলেটের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজার প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের জন্য আধুনিক বিশুদ্ধ পানির রিফিল ফিল্টার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।
রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস পিপিএম। উদ্বোধনের আগে দরগাহ মসজিদের ইমাম মোনাজাত পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিডিজি প্রিন্সিপাল এম আতাউর রহমান পীর সাসেক, যুক্তরাজ্যের কাউন্টি কাউন্সিলর হেনা চৌধুরী, জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈনুদ্দীন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিডি ক্লিন সিলেটের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান আরিয়ানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ মাজার প্রাঙ্গণে আসেন। নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন স্থাপিত স্টেশন থেকে দর্শনার্থীরা নিজেদের পানির বোতল পুনরায় পূরণ করতে পারবেন, যা প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে সহায়ক হবে এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সিলেটের কৃতি সন্তান ও প্রবাসী মজমিল হোসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইস্টবোর্ন শহরে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন প্লাস্টিক ফ্রি ইস্টবোর্ন এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ পিওর ফিল্টার ড্রিংকিং ওয়াটার মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে দেশে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় ও জনবহুল স্থানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক, তেমনি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেও এ ধরনের রিফিল স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ সফল করতে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিশুদ্ধ পানির এই ছোট উদ্যোগ হয়তো বড় পরিবর্তনের সূচনা—যেখানে সেবা, সচেতনতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে মানুষের কল্যাণে।