,

7 February 2026, 5:49 PM

সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চা শ্রমিকদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : February 7, 2026 5:49 PM



শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা হবে। শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আয়োজনে কুলাউড়া নবীন চন্দ্র স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিলেট এয়ারপোর্ট পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না হওয়ায় শুধু লন্ডন থেকে বিমানের উঠানামা হয়। মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে দু’একটি বিমান সিলেট হয়ে ঢাকা যায়। তবে বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকলেও সিলেটে এয়ারলাইনস আসে না। সিলেটিরা মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লাইট সিলেটে আসবে।

তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। মুখের কথা নয়, এটা আমাদের বুকের কথা। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, জাতি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সকল জাতি-বর্ণ-শ্রেণির মানুষ নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি ভূখা থাকবে, এটা হতে দেওয়া হবে না। আগামী ১২ তারিখের ভোট বাংলাদেশ পরিবর্তনের ভোট ও ২৪-এর যোদ্ধাদের আকাঙ্খার ভোট। গণভোট হ্যাঁ জয়ী হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ পাওয়া যাবে।

চা শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছেন। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে তিনি নিজেকেই ভুলে যাবেন। তিনি তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করবেন। তিনি বলেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রানীর মেয়ে রানী হবে, তা চাই না। যদি কোনো শ্রমিকের মেধাবী সন্তান হয়, রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে এবং সে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারবে।

প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোক দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসীর মৃত্যু হলে লাশ নিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। রাষ্ট্রকে নিজ দায়িত্বে সম্মানের সাথে এসব লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে। কোনো শ্রমিক প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে মারা গেলে তার পরিবারের দায়িত্ব সরকার নেবে। দেশে চুরি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করা সম্ভব হবে।

হ্যাঁ ভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, গণভোট বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধা ও শহীদদের আকাঙ্খার ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। তিনি জনতার উদ্দেশ্যে ‘আজাদী না গোলামী?’ প্রশ্ন করলে জনতা সমস্বরে ‘আজাদী’ বলে উঠেন।

কুলাউড়া আসনের প্রার্থী নিয়ে তিনি বলেন, কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দুইজন। একজন সায়েদ আলী। আর ছায়াপ্রার্থী হিসেবে আছেন তিনি নিজে।

মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ ইয়ামির আলীর পরিচালনায় এবং মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো: সাহেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের সদস্য শরিফ মাহমুদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ আসনের ১১ দলীয় মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সিলেট মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুর রব, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি শাহ মাছুম ফারুকী, এনসিপির জেলা যুগ্ম সচিব শাহ আলম সরকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমদ, জুলাই যোদ্ধা শাহাবুদ্দিন বাবলু, ফুলতলা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি হর গোবিন্দ, সিংগুর পানপুঞ্জির মন্ত্রী জামিন ধর প্রমুখ।

জনসভায় প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ও মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো: সায়েদ আলীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। মৌলভীবাজার সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গান ব্যাপক প্রশংসিত হয়। উন্মুক্ত মাঠে বিশাল এ নির্বাচনী জনসভায় এই প্রথম প্রায় পাঁচ হাজার মহিলা উপস্থিত হন।

শেয়ার করুন