,

5 February 2026, 8:59 PM

জগন্নাথপুরে অর্থ সংকটে থমকে গেছে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট টাইম : February 5, 2026 8:59 PM



শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় অকাল বন্যা থেকে আগাম বোরো ফসল রক্ষার জন্য নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের কাজ অর্থ সংকটে থমকে গেছে। উপজেলার সবচেয়ে বড় নলুয়ার হাওরসহ ১২টি হাওর ও নন হাওরের ফসল রক্ষায় ৩৭টি পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারিভাবে ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ না পাওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

৫ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রকল্পের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটিকাটার কাজ প্রায় শেষ হলেও কিছু প্রকল্পে কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। প্রথম বিল পাওয়ার পরই অধিকাংশ প্রকল্পে সেই অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিল না পাওয়ায় অনেক পিআইসি কাজ চালু রাখতে গিয়ে ধারদেনা ও সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কলকলিয়া ইউনিয়নের নলুয়ার হাওরের কান্দারগাঁও নোয়াগাঁও এলাকায় এক নম্বর প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে নোয়াগাঁও গ্রামের ভেতরের অংশে এখনো কাজ শুরু হয়নি এবং নদীপাড়ের অংশটি অসম ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রকল্প সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুহিত ও সদস্য সচিব মিটন মিয়া জানান, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও শেষ সময়ে এসে অর্থের অভাবে তারা দিশেহারা। জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পের বাইরে থাকা কিছু অংশেও তারা নিজ উদ্যোগে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর এলাকায় ৩০ নম্বর প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। প্রকল্প সভাপতি মুজাফ্ফর আলী ও সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার জানান, তাদের প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, তবে অর্থ সংকটে কাজ চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা সভাপতি ও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, মাটির সংকট ও অর্থের অভাবে কাজের গতি কমে গেছে। দ্রুত বিল পরিশোধ না হলে পিআইসিরা আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা শেখ ফরিদ জানান, দ্বিতীয় বিল হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নির্বাচনের আগেই পিআইসিদের বিল প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

হাওরের মাঠে যখন সবুজ ধান দুলছে, তখন সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হলে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেসে যেতে পারে, আর সেই আশঙ্কাই এখন জগন্নাথপুরের কৃষকদের মনে সবচেয়ে গভীর।

শেয়ার করুন