শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:০১ অপরাহ্ণ

২ লক্ষ টাকার দোলনা অকেজো

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৫ ১০:০১ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

২ লক্ষ  টাকার দোলনা অকেজো

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের বালাগঞ্জ ইউএনও’র বাসভবনে নিয়ম বহির্ভূত উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে শিশুদের খেলনা সামগ্রী স্থাপন করা হয়। যদিও এটি উন্মুক্ত স্থানে স্থাপন করার কথা। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ধূসর যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আসাদুর রহমান ও আমলাদের যোগসাজসে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্প গুলোর কাজ অনুসন্ধান করতে গেলে বেড়িয়ে আসে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বৎসরে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে মাত্র দুটি কাজ করা হয়। একটি “উপজেলা কমপ্লেক্সে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্লিপার দোলনা সহ বিনোদন সামগ্রী” স্থাপনে ব্যয় ধরা হয় ২ লক্ষ টাকা। এ প্রকল্পটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে ইউএনও’র বাসভবনে। এখন এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অন্যটি পিআইও অফিসের গোডাউনের ২০ বা ২২ ফুট রাস্তা মেরামত ও সংস্কারে ব্যয় ধরা হয় ১ লক্ষ ৯০ হাজার। এ দুইটি কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি রয়েছে।
পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের সদস্য আসাদুর রহমান উপজেলার অভ্যন্তরে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের এই দুটি কাজ বাস্তবায়ন করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সদর ইউনিয়নের একাধিক সদস্য। তারা বলেন, সদর ইউনিয়নের ভেতরে পরেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন। অন্য ইউনিয়ন থেকে কিভাবে কাজ করানো হল? বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, শিশুদের খেলনা সামগ্রী খুব নিন্ম মানের মালামাল দিয়ে তৈরী। অন্যদিকে ২০/২২ফুট রাস্তার প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হয়নি এবং গুণাগুন যে পরিমান থাকার কথা বাস্তবে তা নেই।

উপজেলার অভ্যন্তরে উপজলা পরিষদ, এডিপি’র অর্থায়নের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার লোক ও আমলারা বিভিন্ন কৌশলে করেছে, এতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের এক কর্মকর্তা এবং ইউএনও’র নিজ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ঠিকাদার থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেশীর ভাগ কাজ না দেখেই বিল দিয়ে দিয়েছেন এরকম অভিযোগও রয়েছে সদ্য বদলী ইউএনও’র মারিয়া হকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ২০২৩-২০২৪ অর্থ বৎসরে উপজেলা উন্নয়ন তহবিল থেকে নেয়া প্রকল্পগুলোর কাজেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, এসব কাজে একাধিক ইউপি সদস্যদের হাত খরচা দিয়ে নাম মাত্র প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে এগুলো সহ অনেক কাজ করেন ওই দুই কর্মকর্তা। প্রকল্প গুলোতে তদারকি ছাড়া ইচ্ছামত কাজ করায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকল্পের সভাপতিগন জানান, সঞ্জয়-প্রদীপের সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চায় না। কারণ ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বাস্তবায়নকৃত অনেক কাজের বিল তারা বিভিন্ন ভাবে আটকে রাখতে পারে। একজন ইউএনও’র সচিব অপর জন উপজেলা সাবস্টেশন ইঞ্জিনিয়ার।

অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, স্টীমিট অনুযায়ী স্থানীয় এক মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা (সঞ্জয়-প্রদীপ) এই কাজ করেনি। তবে এর আগে তারা এরকম অনেক কাজ করেছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত চন্দ বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন