২৬ আগস্ট ২০২৫, ২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের সাতটি এবং দেশের মোট ১৭টি পাথর কোয়ারিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ইকো-ট্যুরিজম হিসেবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। এ ছাড়া আদালত এসব কোয়ারিকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা ও টেকসই ইকো-ট্যুরিজমে রূপান্তরের বিষয়ে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছেন।
রোববার বিকালে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দীকার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার করা জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানির পর এ আদেশ দেন।
বেলার পক্ষের আইনজীবী এস হাসানুল বান্না জানান, আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধ্বংসাত্মক পাথর উত্তোলন রোধে অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং সিলেট ও বান্দরবনের জেলা প্রশাসককে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি মহাপরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে আদালতে জমা দিতে বলেছেন।
আদালত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে কোথায় কোথায় পাথর উত্তোলন হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনসহ দায়ীদের তালিকা জমা দিতে এবং সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে সরাসরি আদালতে হাজির হয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেছেন।
আদালত সিলেট জেলার জাফলং, শাহ আরেফিন টিলা, ভোলাগঞ্জ, উৎমাছড়া, শ্রীপুর, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া এবং বান্দরবান জেলার ১০টি ঝিরি-ছড়া এলাকার কোয়ারি থেকে ধ্বংসাত্মক, ক্ষতিকর ও বিপজ্জনকভাবে পাথর উত্তোলন, আহরণ ও অপসারণকে অবৈধ, কর্তৃত্ববহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
মামলায় বেলার পক্ষে আরও ছিলেন মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহা. এরশাদুল বারী খন্দকার।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, ১৩৬ একরের শাহ আরেফিন টিলা, পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর এবং এর পাশের ১০ একরের রেলওয়ে বাঙ্কার, গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং ও বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরের লালাখাল ও শ্রীপুর-রাংপানি এলাকা ব্যাপক ‘লুটপাটের’ শিকার হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাত লুটপাট হয়েছে এসব জায়গায়। এর ফলে পর্যটন এলাকাগুলো পাথর-বালু ‘শূন্য’ হয়ে পড়েছে। রেলওয়ে বাঙ্কার ও শাহ আরেফিন টিলা ‘খানাখন্দে’ পরিণত হয়েছে এবং বিপুল সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। লুটেরা চক্র কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সারাদেশে পাথর ও বালু তোলার জন্য নির্দিষ্ট ৫১টি কোয়ারি রয়েছে। সিলেটের কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে রয়েছে আটটি কোয়ারি। এর বাইরে সিলেটের সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ আরও ১০টি জায়গায় পাথর-বালু আছে, যা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি নদী থেকে এসব পাথর-বালু আসে। ২০২০ সালের আগে সংরক্ষিত এলাকা বাদে সিলেটের আটটি কোয়ারি ইজারা দিয়ে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতো, কিন্তু পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির কারণে ২০২০ সালের পর আর পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়া হয়নি।