১১ আগস্ট ২০২৫, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
গোয়াইনঘাটে অভিযুক্তদের বুকে চাঁদাবাজ লিখে ছবি প্রচার করেছে পুলিশ। ছবিতে দেখা যায় অভিযুক্তদের সাথে পুলিশ সদস্যরাও আছেন।কিন্তু বুকে চাঁদাবাজ লিখা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আজমল সহ ৭ জনের।
জানা যায়, লুটপাটকারী চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার জামিন নিতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সময় সিলেট ঢাকা রোড থেকে র্যাব আজমল সহ ৭জনকে আটক করে গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করে।পুলিশ অভিযুক্তদের বুকে চাঁদাবাজ লিখে ছবি প্রচার করছে।এ নিয়ে জনমনে বিশাল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতো পুলিশ মানুষের মর্যাদা ও অধিকার ভুলুন্ঠিত করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন,এ ধরনের ছবি প্রচারে নিষেধ আছে।আমি ডিপার্টমেন্টাল ব্যাবস্থা নিচ্ছি।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পিপি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেছেন, অভিযুক্তদের বুকে চাঁদাবাজ লিখে ছবি প্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।এটি নীতিবিরোধী কাজ।এটি পুলিশের আচরণবিরোধী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।এটি আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য।
প্রবীণ সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী বলেন,এটি গ্রহণযোগ্য নয়।পুলিশের হয়ত কোনো স্বার্থ জড়িত আছে।এটি সম্পুর্ন উদ্দেশ্যমুলক অভিহিত করে তিনি বলেন, আদালত কর্তৃক বিচারের আগে এ ধরনের ছবি প্রচার মোটেই ঠিক নয়।এর মাধ্যমে তাদেরকে সমাজে অপদস্ত ও হেয় করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
উল্লেখ্য,আজমল হোসেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন,সিলেট জেলা শাখার সদস্য ছিলেন। একজন প্রতিবাদী কন্ঠ।চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সে গোয়াইনঘাটে আপোষহীন সংগ্রাম করে যাচ্ছে।সে একজন পরিবেশ কর্মী।নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের গোয়াইনঘাট শাখার আহ্বায়ক।সে উপজেলার লেঙ্গুরা গ্রামের ফয়ছাল আহমদের পুত্র।
আজমল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট, ডাওকি নদী, বাংলাবাজার, মুক্তলা, বুদিগাও হাওরসহ ইজারাবিহীন পরিবেশ সংরক্ষিত (ECA) এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।ফলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা তাকে বারবার হত্যার হুমকি দিয়েছে। পাশাপাশি তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসির সাথে গতকাল বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।