,

26 May 2025, 5:56 PM

দালালদের জায়গা বাংলাদেশে হবে না: বিভাগীয় কমিশনার

আপডেট টাইম : May 26, 2025 5:56 PM



শেয়ার করুন

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা- উন-নবী মধ্যস্বত্বভোগীহীন ভূমি ব্যবস্থাপনা তৈরীর কথা উল্লেখ করে বলেন,দালালদের কোনো জায়গা বাংলাদেশে হবে না।দালালদের আমরা নিশ্চিহ্ন করতে চাই। তিনি বলেন, দালালরা পরজীবী। এদেরকে ধ্বংস করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীহীন ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।তিনি বলেন, দালাল, দখলবাজ ও চাঁদাবাজরা শোষক শ্রেণী। এদের নির্মূল করতে হবে। দালাল বয়কট করতে হবে।

তিনি বলেন, এবার ভূমি মেলা শুরু হয়েছে। সরকারের নতুন প্রথম উদ্যোগ এটি। এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাকে সেবা ও সেবার তথ্য জানানো হবে। তিনি বলেন, সরকারী দপ্তরগুলো দালালমুক্ত করতে হবে। এর জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারী অফিসারদের সরকার বেতন দেয়। জনগণের পয়সায় আমরা চাকরি করি। তাহলে পার্সেন্টেজ কেন? ভূমি, সাবরেজিস্ট্রার,বিআরটিএ অফিস থেকে দখলবাজী, চাঁদাবাজি ও পার্সেন্ট নেয়া বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন,ছেলেরা জীবন দিয়েছে।রক্ত দিয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র এখনো রাষ্ট্র হতে পারে নাই।হাসপাতাল আছে চিকিৎসা নাই, স্কুল আছে শিক্ষা নাই, ভূমি অফিস আছে সেবা নাই, থানায় যেতে মানুষ ভয় পায়, বিআরটিএ অফিসে প্রতারক ছাড়া প্রবেশ নাই। এগুলো সংস্কার করতে হবে। ছোট ছোট বাচ্চারা দেখিয়ে দিয়েছে বদল কিভাবে করতে হয়। তাই যেখানে দুর্নীতি, অন্যায়,অবিচার,সেখানেই প্রতিবাদ করতে হবে। যারা নিরব থাকে, কথা বলে না, এরাও দোষী।তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সহ একথাগুলো গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সুশাসনের বাংলাদেশ গড়তে সকলকে আহবান জানান।

খান মো. রেজা-উন-নবী সোমবার (২৬ মে) সকালে বিভাগীয় পর্যায়ে ভূমি মেলার দ্বিতীয় দিনে এক জনসচেতনতামুলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। নগরীর রিকাবীবাজারে কবি নজরুল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) দেবজিৎ সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার জামান চৌধুরী।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, পৃথিবীতে ভূমি নিয়ে যুদ্ধ চলছে। পৃথিবী একটি ভূমি। ভূমি অধিগ্রহণ, অধিকার নিয়ে চলছে লড়াই। ফিলিস্তিনীদের আবাসভূমি দখল করার অপচেষ্টা করছে পৃথিবীর বিষফোঁড়া এক দেশ। তিনি বলেন, ভূমির মালিক আমাদের স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। ভূমিষ্ঠ, ভূমিকন্যা, ভূমিপুত্র। এগুলো এজন্য বলি আমরা, ভূমি জন্মগত অধিকার। আজকে সম্পদ কুক্ষিগত, লুন্ঠন হচ্ছে।তিনি বলেন, যাকাত যেমন অধিকার,করুনা বা দয়া নয়। তেমনি ভূমিও একটি অধিকার। শক্তি, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি দিয়ে, পোশাক দিয়ে বিচার নয়। আমরা রিফিউজি বলে মানুষকে আসলে তাচ্ছিল্য করি। যেমন রোহিঙ্গাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে।তিনি ভূমির অধিকার সবার জন্মগত অধিকার আখ্যায়িত করে বলেন,বিগত দিনে কুক্ষিগত করে সেবা, সম্পদ, অধিকার রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের স্কুল কলেজের পাঠ্যক্রমে প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক বিষয় যুক্ত করতে হবে। যেমন, পাঠ্যপুস্তকে ভূমির কথা লিখা নাই,ব্যাংকিং নাই ইত্যাদি। বড় বড় মানুষের নৈতিক শিক্ষা নাই। ইতিহাস নিয়ে পড়লাম কিন্তু প্রয়োগ নাই। ইতিহাস থেকে ও শিক্ষা নেই না।আপনি পিএইচডি, ড.। অথচ কোন অফিস কি করে তাও জানেননা। আমাদের সকল দপ্তরকে গণমুখী করতে হবে।প্রাথমিক, বেসিক শিক্ষা সকলের জানা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে অন্ধকারে এবং অসচেতন করে রাখা যাবে না। চোখ খুলে দিতে হবে। অনেকে দেখে না। জ্ঞানের চোখ খুলে দিতে হবে। সচেতন চোখ খোলতে হবে। ফেরাউন তার লোকজন নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল এমন অসৎ নেতা পরিহার করতে হবে।তিনি বলেন, ভূমি অফিসে,সাব রেজিস্ট্রার অফিসে মানুষ শোষিত হচ্ছে। মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না। যারা মানুষকে কষ্ট দেয়।তারা আবার মুসলমান দাবি করে, নামাজ পড়ে, রোজা রাখে।অথচ দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম মানুষ রাসুল সাঃ মানুষকে কষ্ট, আঘাত না দিতে বলেছেন। এদের পরিণাম ভাল হবে না। তিনি বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ সব জায়গায় আছে শব্দ হিসেবে কর্মে নয়। তাই রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করতে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।মানুষকে সম্মান করতে হবে। তবেই রাষ্ট্র পুনর্গঠন হবে।

শেয়ার করুন