বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ আগস্ট ২০২৫, ১১:১১ অপরাহ্ণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নায়কদের ঋণ শোধ হবার নয়: তাহসিনা রুশদী লুনা

আপডেট টাইম : আগস্ট ৫, ২০২৫ ১১:১১ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিপ্লবের নায়কদের ঋণ শোধ হবার নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার গুম, খুন ও ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়নি। তিনি বলেন, ছাত্ররা কোটা আন্দোলন দিয়ে শুরু করেছিলো আর শেষ হয়েছিলো ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে।

তিনি আরও বলেন, বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সরকার ছাড়া কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তিনি সকলের ঐক্য ধরে রাখার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাহসিনা রুশদী লুনা সাদাকে সাদা ও অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে মর্মে জোর দেন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকলের সচেষ্ট থাকার কথা বলেন। তিনি ৫ আগস্ট ২০২৫ মঙ্গলবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন।

সিকৃবিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে বিকাল ৩টায় প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা, শহীদ পরিবারকে উপহার প্রদান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেন।

আলোচনা সভায় প্রধান পৃষ্টপোষক ও সিকৃবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মীর মুগ্ধসহ সকল শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক প্রতিবাদ ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাইলফলক। তিনি এটিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ, পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দখলে ছিল এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরকারের দোসররা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের বিচার তিনি করে যাবেন। প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, “যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবেই তুমি বাংলাদেশ। আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো”। তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াতে ইসলামী সিলেট জেলার আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দৃশ্যমান বিচার, জুলাই সনদকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে সংযুক্ত করা এবং সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দেন। তিনি রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে স্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষা ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সিকৃবি ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান যখন ছাত্রদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করেন, তখন থেকেই গণমানুষের মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী উদগীরণ দেখা গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ফ্যাসিবাদী আইন কায়েম করেছে, ভয়ের রাজনীতি ধারণ করেছে এবং ছাত্রদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সিকৃবি রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ আসাদ-উদ-দৌলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্টপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকৃবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের ভাই আবুল আহসান মো: আজরফ (জাবুর), এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামিউল আহসান তালুকদার এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন