শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ মে ২০২৫, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষায় নতুন অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ

আপডেট টাইম : মে ৬, ২০২৫ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

আলোকিত সিলেট ডেস্ক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই অধ্যাদেশের খসড়া অনুযায়ী, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া, হয়রানি বা সহিংসতার শিকার করা যাবে না। এ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য থাকবে। নিবর্তনমূলক আইনে তাদের গ্রেফতার করা যাবে না। তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি, হয়রানি বা সহিংসতার মুখোমুখি করা যাবে না। এমন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের তথ্যসূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। কোনো সাংবাদিক যদি মিথ্যা মামলা করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।সাংবাদিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বাসস্থান ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের ঘরে তল্লাশি বা সম্পদ জব্দ করা যাবে না। সাংবাদিকদের যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সংবাদ সংস্থা, স্যাটেলাইট বা ইন্টারনেটভিত্তিক রেডিও-টেলিভিশন, ভিডিও, অডিও, লেখা, গ্রাফিক্স ও মাল্টিমিডিয়া সংবাদের সাথে জড়িত সবাই এই আইনের অধীনে থাকবেন।

কোনো সাংবাদিক সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হলে, তিনি সরাসরি আদালতে মামলা করতে পারবেন। আদালত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেবেন। প্রয়োজনে সময় বাড়ানো যেতে পারে। সংবাদমাধ্যমের মালিক বা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের চাপমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। লঙ্ঘন করলে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনে অভিযোগ করা যাবে।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, এই অধ্যাদেশ সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা দেখতে হবে।

সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামুল কবীর জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ প্রণীত হচ্ছে। এটি দেশে সাংবাদিকতা সুরক্ষার প্রথম আইনি উদ্যোগ।

এই অধ্যাদেশে সাংবাদিক বলতে সম্পাদক, রিপোর্টার, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার, কার্টুনিস্ট, গ্রাফিক ডিজাইনারসহ সব পেশাদার সংবাদকর্মীকেই বোঝানো হয়েছে।

এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন