শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৬ এপ্রিল ২০২৫, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

জল্লারপাড় জামে মসজিদের হিসাবের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ওয়াকফ পরিদর্শকের গড়িমসি

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৬, ২০২৫ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

 

মাহফুজ কাউসার ছাদি: সিলেটের আমিরুল হোসেন গং ওয়াক্ফ এস্টেটের অধীনস্থ জল্লারপাড় জামে মসজিদের আর্থিক হিসাব তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লি ও সমাজের সদস্যরা। গত কয়েক বছর ধরে মসজিদের উন্নয়ন কাজ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তদন্ত শেষ হলেও এখনও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা এহসানুল হক তাহের। তিনি গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে জল্লারপাড় মসজিদের হিসাবের তদন্ত প্রতিবেদন মুসল্লীসহ এলাকাবাসীর সম্মুখে প্রকাশ করতে লিখিত আবেদন করেছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর মসজিদের ২০১০ সাল থেকে চলমান পুনঃনির্মাণ ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্তের জন্য ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়। ১৯৬২ সালের ওয়াক্ফ অধ্যাদেশের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে হিসাব নিরীক্ষা করা হয় এবং মোতায়াল্লী কর্তৃক ওয়াক্ফ সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার না করা ও নিয়ম বহির্ভূত ভোগবাদী কার্যক্রমের অভিযোগ তদন্তের জন্য অনুরোধ করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সিলেটের ওয়াক্ফ পরিদর্শক কার্যালয়ে হিসাব নিরীক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি তদন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না করায় স্থানীয় মুসল্লি ও সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আবেদনকারীর পক্ষ থেকে ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষের কাছে জল্লারপাড় জামে মসজিদের হিসাব-তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওয়াক্ফ হিসাব নিরীক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার নিয়ম নেই। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠাতে হয়। আমি ইতিমধ্যে তদন্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনো ব্যক্তি এই রিপোর্ট জানতে চাইলে, কেন্দ্রীয় অফিসে আবেদন করে তা দেখতে পারবে।” তবে আবেদনকারী এহসানুল হক তাহের বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি লুকিয়ে রাখতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করতে খোদ ওয়াকফ পরিদর্শক গড়িমসি করছেন। তিনি অভিযোগ করেন মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও পরিদর্শকের কারণে মুসল্লিরা সঠিক হিসাব পাচ্ছে না দীর্ঘদিন থেকে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদের সম্পত্তি ও দান-অনুদানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন