,

16 March 2025, 11:09 PM

গৌরপুরে আলী আহমদ ও তার স্ত্রী সন্তানদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ২০ লক্ষ চাঁদা দাবি, বাড়ী ছাড়ার হুমকি

আপডেট টাইম : March 16, 2025 11:09 PM



শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট মহানগর এলাকার জালালাবাদ থানার গৌরপুর গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী আলী আহমদ (৪৫) ও তার স্ত্রী সন্তান হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা আলী আহমদের দাঁত ভেঙ্গে ফেলে, স্ত্রীর চুল কেটে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে, শিশুদের উপর হামলা করে।তারা বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে নিরীহ আলী আহমদের উপর। নতুবা বাড়ী ছেড়ে চলে যেতে হবে বলে হুমকি দেয়।

জানা যায়, বিগত ১৮ জানুয়ারী শনিবার সকালে, ২৫ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে, ২৬ জানুয়ারী বিকেলে পর পর তিনবার সন্ত্রাসীরা হামলা করে। এছাড়া অন্যান্য সময়ে বহুবার আলী আহমদ ও তার পরিবার হামলার শিকার হয়েছেন। জীবনের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন আলী আহমদ। হামলাকারী মাদকসেবীদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে ১০ মার্চ আরেকটি মামলা করেছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আলী আহমদ। তিনি পুলিশ ও সেনা ক্যম্পেও অভিযোগ দেন।

জানা যায়, অভিযুক্তরা আলী আহমদের আপন ভাই ও ভাইদের বউ। এরা দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এসকল পরিবারের সদস্যদের দ্বারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সবজি ব্যবসায়ী আলী।তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ছোট ভাই আলী হোসেন (৪২) ও তার স্ত্রী শিরিনা বেগম (৩৫), আরেক ভাই আকবর হোসেন (৩৯) ও তার স্ত্রী লাকি আক্তার (২৫)-এর দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও, আলী আহমদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আলী আহমদের অভিযোগ, তার ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী নিয়মিত তার স্ত্রী রুজিনা বেগম, মেয়ে রুমানা বেগম (১৮) এবং দুই ছেলেকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করছে। এমনকি ১৮ জানুয়ারি সকালে ও ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বিকেল পাঁচটায় তারা রুজিনা বেগমের মাথার চুল মেশিন দিয়ে কেটে নেয় এবং তাকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনার প্রমাণও রয়েছে বলে আলী আহমদ দাবি করেছেন।

আলী আহমদ আরও জানান, তার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী তাকে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছে। এছাড়াও, তারা আলী আহমদের পানির কল বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে তার পরিবার পানি ব্যবহার করতে না পারে। এমনকি আলী আহমদের অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সাত ঘন্টা জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। শিশুদের বন্দি করে উপোস রেখে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে ওরা।

আলী আহমদের অভিযোগ, তার ছোট ভাই আলী হোসেন ও তার স্ত্রী শিরিনা বেগম এবং আরেক ভাই আকবর হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের নামে থানায় মামলা রয়েছে। তিন বছর আগে তাদের মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তারা মনে করে আলী আহমদই তাদের গ্রেফতার করিয়েছেন। জামিন হওয়ার পর থেকেই তারা আলী আহমদ ও তার পরিবারকে নির্যাতন করছে।

আলী আহমদ আরও জানান, তার বিবাহিত তিন বোন যখন তাদের অসুস্থ মাকে দেখতে আসেন, তখন তার ছোট ভাইয়েরা তাদের বাধা দেয়। প্রতিবাদ করলে আলী আহমদ, তার স্ত্রী ও তিন বোনকে শারীরিকভাবে অত্যাচার করা হয়। এমনকি এই সময়ে আলী আহমদের পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর আলী আহমদ ও তার তিন বোন চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতাল ও কলেজে ভর্তি হন।শুধু তাই নয় এই চক্র সুমেনা বেগমের দুই লক্ষ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে যায়।

আলী আহমদ ইতিমধ্যে সিলেট জেলা আর্মি কমান্ডার ও পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন। তবে তার মতে, অভিযোগ দায়ের করার পরেও তার ও তার পরিবারের উপর নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।

স্থানীয় মুরব্বি ও পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ জানানোর পরও এই সমস্যার সমাধান হয়নি বলে আলী আহমদ জানান। তিনি এখন প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ আশা করছেন, যাতে তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে পারে।আলী আহমদ ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শংকায় আছেন বলে এ প্রতিবেদক কে জানান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লাকি আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান যে আমি গর্ভবতী এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজের পিতার বাড়িতে অবস্থান করছি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কারণে কারও উপর নির্যাতন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তিনি পারিবারিক বিবাদের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়াও, তিনি স্বীকার করেছেন যে শিশুদের ঘরের ভিতরে আটকে রাখা হয়েছে, যা তাঁর শ্বশুর করেছেন।
পানির টিউবওয়েল সংক্রান্ত বিষয়ে লাকি আক্তার জানান, টিউবওয়েল বসানোর সময় সম্পূর্ণ খরচ আলী হোসেন বহন করেছিলেন। কিন্তু জমি ভাগ হওয়ার পর উক্ত জমির অংশ আলী আহমদের অধীনে চলে যায়। এর ফলে আলী আহমদ তাঁর ছোট ভাই আলী হোসেনকে টিউবওয়েল ব্যবহার করতে বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আলী আহমদ বলেন, যেহেতু তাঁর টাকা দিয়ে বসানো টিউবওয়েলের পানি তিনি নিজে ব্যবহার করতে পারছেন না, তাই তিনি টিউবওয়েল তুলে ফেলবেন।

এ ব্যাপারে এসএমপি’র জালালাবাদ থানার ওসি-কে ফোনে বিষয়টি সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে, তিনি থানায় এসে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন।

আলোকিত সিলেট / এস এস

শেয়ার করুন