২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
মাহফুজ কাউসার ছাদি : মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) কেয়া খান বলেছেন, জীবন যুদ্ধে বিজয়ী নারীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি নারী অনুপ্রাণিত হতে পারেন এবং তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হলো নারীদের সমাজে পিছিয়ে না রাখা এবং তাদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা। স্বাধীনতার এত বছর পরেও আজও অনেক নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, যা আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নারীদের প্রতি সম্মান ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করতে পারি। আসুন, আমরা সবাই মিলে নারীদের ক্ষমতায়নে অবদান রাখি এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ সুগম করি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিভাগীয় পর্যায়ে অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৪ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অদম্য নারীগণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) দেবজিৎ সিংহ, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স) মো. আজিজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ, উপমহাপুলিশ কমিশনার সজিব খান, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আশিক উদ্দিন। এতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত পরিচালক ও অদম্য কর্মসূচি পরিচালক মো. মনির হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার।
সভাপতি বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, খান মোঃ রেজা-উন-নবী বলেন,চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের অনেক আকাঙ্খা আছে রাষ্ট্রের উপর। রাষ্ট্র সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে হবে। মানুষ সরকারী অফিসে আসতে ভয় পায়। এ ভয় দুর করতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে। পুলিশকে গণমুখী হতে হবে। তখন মানুষ পুলিশমুখী হতে হবে। তিনি বলেন যতক্ষণ পুলিশ ঠিক হবে না, ততক্ষণ জনগণ রাষ্ট্রের সুফল পাবে না।
এই পুরস্কারের মাধ্যমে নারীদের অদম্য সাহস ও সংগ্রামের গল্পগুলো সামনে আসে এবং তাদেরকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি সমাজে নারীদের ভূমিকা ও মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সিলেট বিভাগে অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৪-এ শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হয়েছেন পাঁচ ক্যাটাগরির পাঁচজন। তাঁরা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী আম্বিয়া খাতুন, শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে হালিমা বেগম, সফল জননী মাজেদা আক্তার, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে সফল নারী মোছা. রেহেনা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য শেখ রওশন আরা নিপা।
আলোকিত সিলেট / এস এস