শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৫ নভেম্বর ২০২২, ৮:১৮ অপরাহ্ণ

জৈন্তাপুর দরবস্তে সরকারি জলমহালের দখল নিয়ে দুই-গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩০

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১৫, ২০২২ ৮:১৮ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

মোঃ সাজ উদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ছোটারী সেনগ্রামের হাওরে সরকারি একটি জলমহালের দখল নিয়ে একই এলাকার স্থানীয় দু’টি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নারী-পুরুষ সহ অন্তত ৩০ জন লোক আহত হয়েছেন।

আহতদের জৈন্তাপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকেই সিলেটের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আহত অনেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়িতে চলে গেছেন। গুরুতর আহত ৪ জন কে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

১৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ০৮:৩০ ঘটিকার দিকে ছোটারী সেনগ্রামের হাওরের ছাড়াল কান্দি নামে পরিচিত সরকারি জলমহাল (বিলের) দখল নিয়ে বিলের পাড়ের রাস্তায় স্থানীয় আব্দুল খালিক গ্রুপ এবং হানিফ আলী গ্রুপের মধ্যে এই সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হানিফ আলীর দাবী স্থানীয় একটি মৎস্যজীবি সমিতির নামে জলমহালটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। আব্দুল খালিকের দাবী সরকারি খাস জলমহাল স্থানীয় গ্রামবাসি ভোগদখল করে মাছ আহরণ করবেন। মুলত এই বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় গ্রামের জনসাধারণ দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। বিল দখল কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এই ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ সহ অন্তত ৩০/৩৫ জন লোক আহত হয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম দস্তগীর আহমেদ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স প্রেরণ করেন। অন্তত ০১ ঘন্টা সময় ধরে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় উভয় পক্ষের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। উভয় পক্ষই ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। ঘটনার পর জৈন্তাপুর সরকারি হাসপাতালে সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আহত বেশিরভাগ মানুষের মাথা, হাত ও মুখ, পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত করণ হচ্ছে। তবে কেউ নিহত হন নাই।

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম দস্তগীর আহমেদ, দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ অনেক চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি নূরুল ইসলাম সহ জনপ্রতিনিধিগণ জৈন্তাপুর হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

উভয় পক্ষের আহতরা হলেন কলেজ ছাত্র কায়ছার আহমদ (২৫), জুবেল আহমদ (২৩), লোকমান আহমদ (৩০), রহিম উদ্দিন (৩২), আব্দুল করিম (৩৪), আলা উদ্দিন (৪০), তোতা মিয়া (৪০), নিজাম উদ্দিন (৩৪), কলিম উল্লাহ (৪৫), আব্দুর রহমান (৩৬), মরিয়াম বেগম (৩৪), মোঃ আব্দুল্লাহ (৩৩), নূরুল হক (৩৭), আলকাছ আলী (৩৪), হোসেন মিয়া (৪২), সাইফুল আলম (৩২), আব্দুন নুর (৩৬), আলী আহমদ (৩৪)। তাৎক্ষনিকভাবে অন্য আহতদের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয় নাই।

এই সংর্ঘষের ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সামাজিকভাবে সালিশ বিচারে বিষয়টির নিষ্পত্তি করার উদ্যােগ গ্রহণ করছেন বলে দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় ময়-মুরব্বিয়ানদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়।

এই ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি সহ আমাদের পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি জলমহাল নিয়ে দু’টি গ্রুপের মধ্যে সংর্ষষ হয়েছে। হাসাপাতালেও আমাদের পুলিশ ফোর্স ছিল। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দায়ের করে নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।

শেয়ার করুন