১৬ এপ্রিল ২০২২, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
ছাতক প্রতিনিধি:
ছাতকে চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল ‘সাম্মাম’ ও রকমেলন। সৌদি আরবসহ মরুপ্রধান দেশে সাম্মাম বেশ জনপ্রিয় ফল। ফলটি সাধারণত দুই ধরনের হয়। হলুদ মসৃণ আবৃত খোসার ফলটির ভেতরের অংশ আমাদের দেশের বাঙ্গীর মতো। অন্যটি খোসার অংশ খসখসে ও ভেতরে অংশে হালকা হলুদ এবং বাদামি বর্ণের। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিচিত এ ফলটির চাষাবাদ এখন হচ্ছে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায়। কালারুকা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রিয়াজ উদ্দিন, চানপুর গ্রামের বুরহান উদ্দিন ও রাজাপুর গ্রামের এনামসহ তিনজন মিলে হাসনাবাদ গ্রামের রেললাইনের পাশে ৪ বিঘা জমিতে এবার সাম্মাম ও রকমেলনের চাষ করেছেন। এবার ফলনও ভালো হয়েছে। তাই পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি তারা এই ফল খুচরা বাজারে বিক্রি করার হতে পারে। ১৫ রমজান (১৭-এপ্রিল) থেকে ফলগুলি বাজারজাত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বুরহান উদ্দিন। রিয়াজ উদ্দিন, বুরহান উদ্দিন ও এনাম চাষাবাদে বিশেষ করে সবজি ও ফল চাষে দীর্ঘদিনের আগ্রহ তাদের। এবার বিদেশি জাতের ফল উৎপাদন করে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তারা। তাদের এ কর্মকান্ড দেখে উৎসাহিত হয়ে অনেক সৌখিন চাষিও নতুন নতুন জাতের ফল উৎপাদনে ঝুঁকছেন। রিয়াজ জানান, সাম্মাম ফলের রোগবালাই তেমন নেই বললেই চলে, গাছে খুব সামান্য সার ও কীটনাশক দিতে হয়। আর এ ফল গাছের সঠিকভাবে চাষাবাদ এবং নিয়মিত ফুলের পরাগায়ন ভালো মতো হলে একেকটি গাছ থেকে বেশ কয়েকটি ফল উৎপাদন করা সম্ভব। তবে ফলের ওজনে লতা ছিঁড়ে পড়ার ভয়ে একটু বড় হওয়ার পরপরই ফলগুলো ব্যাগিং করতে হয়। তিনি আরো বলেন, সাম্মাম পাকা ফ্রুটি বা বাঙ্গির ঘ্রাণ সংবলিত ফলটির স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। ভেতরের রং পাকা পেঁপের মতো। হলুদ রঙের এ ফলটি দেখতে ভিন্নরকম হওয়ায় এবং খেতে খুবই মিষ্টি। এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, সাধারণ তরমুজের চেয়ে এর স্বাদ অনেক ভালো, মিষ্টিও বেশি। মালচিং পদ্বতিতে ইয়েলো কিং ও সাগর কিং এই দুটি জাতের ফল চাষ করা হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনেই এ ফসল বাজারজাত করা যায়। তিনি আরো বলেন, এই ফলে ক্যালসিয়াম, লৌহ, বিঠামিন এ সমৃদ্ভ একটি ফল। শতকরা ৯৫ ভাগ জলীয় অংশ থাকায় এটি মানব দেহের পুষ্টি চাহিদা মিঠায় ও শরীর শীতল রাখে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হােসেন খাঁন বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ ফসল উৎপাদন (আইপিএম) সমন্নিত বালাই ব্যবস্থাপনা মাধ্যমে এটি শতভাগ নিরাপদ ফল হিসেবে উচ্চ মুল্যের ফল চাষের একটি অংশ। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ফলন দ্বিগুন বেশি ফলন হয়েছে। আগামীতে নতুনরাও আগ্রহী হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, আমি কয়েকবার বাগানে গিয়ে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় পরামর্শ ও সহযোগীতা দিয়ে আসছে। ফলনও ভালো হয়েছে। আরো অনেক তরুনরা ফল চাষে উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা করেন।