9 April 2022, 8:52 PM
সিলেট এয়ারপোর্ট থানার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজারে জমি নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ২০জন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।নিহত ব্যক্তির নাম মো.নিজাম উদ্দিন,পিতা.মৃত বশির উদ্দিন,গ্রাম ঘোড়ামারা ।তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক।নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানায় এসএমপি।এঘটনায় নিহতের বড়ভাই পল্লী চিকিৎসক ডা.আকরাম উদ্দিনসহ তার পক্ষের অন্তত ৪জনের গুরুতর অবস্থা রয়েছে। এরা হলেন আকরাম উদ্দিন,তার ছেলে ফয়সাল আহমেদ,আকরাম উদ্দিনের বোনজামাই ছগন আলী ও তার ছোটভাই সেলিম উদ্দিন।
এঘটনায় দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এসএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ।এসময় তিনি বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি,কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারও করা হয়েছে।নিহতের পরিবার আইনী পদক্ষেপ নিলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।আইনের মাধ্যমেই আদালতে এর বিচার হবে। স্হানীয়রা জানান, দু’পক্ষের মধ্যে জায়গায় জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে,একপক্ষ সালিশে বসলে অপরপক্ষ বসেনা এভাবেই সময় ক্ষেপণ করেছে উভয়পক্ষ।
সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে দু’পক্ষ অন্তত চারবার মুখোমুখি অবস্থান করেছেন বলেও জানান স্হানীয়রা।
ঘটনাস্হলে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরকে উপস্থিত দেখতে পেয়ে ঘটনাটি নিয়ে এসময় তাকে নানা প্রশ্ন করা হয়।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,সাধারণত সব এলাকায়ই তো জায়গায় জমি নিয়ে এরকম ছোটখাটো ঘটনা ঘটে কিন্তু আজকের ঘটনা সম্পর্কে আগ থেকে আমার জানা ছিলোনা,কালাগুল ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল আজিজ ফোন করে এ ঘটনা জানালে আমি ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পটে ছুটে আসি।বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা যায়,শনিবার (৯এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৫টার সময় সাহেবের বাজারের সাতগাছি নামক স্হানে ফসলি জমির ধানকাটা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্হলে অপরপক্ষের উপুর্যুপরি আঘাতে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন পল্লী চিকিৎসক ডা.নিজাম উদ্দিন। অপরপক্ষ মৃত সোনাহর আলী গংদের আহতদের তথ্য জানা যায়নি।
এঘটনায় চিকিৎসারত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনজন (০৩)এবং শাহপরান খাদিম হতে একজন(০১)সহ মোট ৪জনকে গ্রেফতার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন আজিজুর রহমান (৪২),তার ভাই মকবুল মিয়া (৪১),সামছুল আলম (৪৩)ও ছয়ফুল আলম (৪০)।
।একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়,প্রায় তিন চার বছর আগে সাহেবের বাজারের মেইন রোডে অর্ধকেয়ারেরও বেশী জমি সিলেট শহরের কাজীর বাজারের স্বত্বাধিকারী আফসর উদ্দিনের কাছ হতে ক্রয় করেন পল্লী চিকিৎসক ডা.আকরাম উদ্দিন। ক্রয় করার কিছুদিনপরই সে জায়গার মালিক দাবী করে বসেন মৃত সোনাহর আলীর উত্তরসূরীরা এবং একপর্যায়ে জায়গার জোরদখল নেয়া তারা।এতেই বিরোধ সৃষ্টি হতে থাকে দু’পক্ষের মধ্যে।এরই সূত্র ধরে বাবার বিক্রি করা সাতগাছির হাওরের জমিতে নিজের আত্মীয়ের অংশ দাবী করে সালিশে বসেন ডা.আকরাম উদ্দিন।সালিশে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোরব্বিদের তত্ত্বাবধানে জমিগুলো চাষাবাদে সম্মত হয় উভয়পক্ষ। সালিশে প্রাথমিকভাবে নিষ্পত্তিও হয়ে যায় বিষয়টি।এরপর থানায় লিখিত আবেদন করে জানানো হয় নিষ্পত্তির কথা।একসময় মোরব্বিদের উপেক্ষা করে ধানি জমিতে সার প্রয়োগ করে একপক্ষ।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপরপক্ষ ধান কাটতে ভোরেই ক্ষেতের জমিতে চলে যায় ।উভয়পক্ষের লোকজন এসময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।স্হানীয়রা আরও জানান,রাতে গোপনে বৈঠকে বসে সোনাহর আলী গং, তারা ডা.আকরাম উদ্দিনগংদের সর্বাত্মক প্রতিরোধের ব্যবস্হা গ্রহণ করে।এবিষয়ে স্হানীয় কালাগুল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুল আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,রাতের বৈঠক সম্পর্কে কোনকিছু আমার জানা ছিলোনা।ঘটনার পর জানতে পেরেছি এবং ঘটনাস্থলে দ্রুতই ছুটে গিয়েছি কিন্তু তখন সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।নিহত পল্লী চিকিৎসা নিজাম উদ্দিন অত্যন্ত ভালো লোক ছিলেন জানিয়ে এলাকার লোকজন জানান,পল্লী চিকিৎসক ডা.নিজাম উদ্দিন কখনো কারো সাথে বিবাদে জড়াননি এবং এগুলো তিনি খারাপ পেয়ে থাকতেন।নিহতের স্ত্রী জানান,ডা.নিজাম উদ্দিন ধান কাটতে নয় বরং তিনি খবর পেয়ে কে ধান কাটছে তা দেখতে গিয়েছিলেন।এসময় পথরোধ করে দুই দিক হতেই তাকে আটক করে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।