শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩১ মে ২০২৫, ৬:৪২ অপরাহ্ণ

সন্তান অপহরণ ও ষড়যন্ত্রের শিকার শাহানা জাহান পলি:আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট টাইম : মে ৩১, ২০২৫ ৬:৪২ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

নিজের সন্তানকে অপহরণ ও পরিবারের সদস্যদের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট নগরীর খাসদবীর বন্ধন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শাহানা জাহান পলি বকস। তিনি দাবি করেছেন, এসব অপকর্মের নেপথ্যে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা।

শনিবার সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ড. রাগীব আলী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পলি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর পরিবারের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে দেলওয়ার মাহমুদ জুয়েল বকসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখে-শান্তিতে কাটছিল। তাদের সংসারে তিন সন্তান জন্ম নেয়—দেওয়ান ফাহমিদ বকস (১৭), সৈয়দ তাহসিন বকস (১৩) এবং সুরাইয়া ফাইরোজ বকস (৭)।

পলি বলেন, তার সুখের সংসার ভেঙে দেওয়ার জন্য বারবার ষড়যন্ত্র করেছেন তারই পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। এদের মধ্যে রয়েছেন ছাতক থানার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের লক্ষনসোম গ্রামের তার বাবার চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম (৫৫) ও সৈয়দুল ইসলাম (৫০)। এছাড়া একই উপজেলার নোয়ারাই ইসলামপুরের তার পিত্রালয়ের বড় ভাই লন্ডন প্রবাসী শাহনেওয়াজ কল্লোল (৪০), ভাইয়ের বন্ধু নুর আলম (৩৯), বড় বোন লন্ডন প্রবাসী সুহেনা জাহান পপি (৩৮) এবং পিত্রালয়ের কেয়ারটেকার মাদক ব্যবসায়ী আরিফ আলী (২৪)।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও তার চাচা সৈয়দুল ইসলাম এবং জাউয়াবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার সংসার ভাঙার চেষ্টা করছেন। কিছুদিন আগে তারা তাকে মিষ্টি কথায় পিত্রালয়ে নিয়ে গিয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে লন্ডনে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এরপর ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তার ছেলে সৈয়দ তাহসিন বকস স্কুল থেকে অপহৃত হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী এয়ারপোর্ট থানায় জিডি করেন (জিডি নং ১২০৭, তারিখ: ২৭/০১/২০২৫)। প্রায় চার মাস ধরে সন্তানের সন্ধান না পেয়ে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাহসিনের সন্ধানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।

২০ মে ২০২৫ তারিখে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, তাহসিনকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজারে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তাকে ডা. রফিকুল ইসলামের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। পলির স্বামী ৯৯৯-এ ফোন করলে এয়ারপোর্ট থানার ওসি আনিসুর রহমান ও এসআই আব্দুল আজিজ ধনপুরে গিয়ে তাহসিনকে উদ্ধার করেন।

পলি বলেন, তাহসিন উদ্ধারের পর তিনি এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করতে চাইলে থানা কর্তৃপক্ষ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাহসিনের বর্ণনায় জানা যায়, অপহরণের দিন স্কুল থেকে তাকে তার ভাই শাহনেওয়াজ কল্লোল, নুর আলম ও আরিফ আলী একটি গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িতে তার নানা সৈয়দুল ইসলাম ও খালা পপিও ছিলেন। তারা তাহসিনকে অজ্ঞান করে নিয়ে যায় এবং চার মাস ধরে অমানবিক নির্যাতন করে।

পলি আরও বলেন, তার চাচারা তাকে টাকার বিনিময়ে লন্ডনে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এজন্য তারা তার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করান, কিন্তু আদালতে সেগুলো খারিজ হয়ে যায়। অতীতে তিনি ছাতক থানায়ও একটি জিডি করেছিলেন (জিডি নং ৩৩১, তারিখ: ০৮/০৭/২০০৭)।

সংবাদ সম্মেলনে পলি সরকার ও প্রশাসনের কাছে তার পরিবারের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, তার সন্তান এখনও মানসিক আঘাতে ভুগছে। তিনি আইনের আশ্রয় চান এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শেয়ার করুন