বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ

হাটখোলা ঝৈনকারকান্দি হাওরে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫ ৭:১৯ অপরাহ্ণ



শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের ঝৈনকারকান্দি হাওরে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,শিবের বাজার টেখার বাড়ি আখলাকুল আম্বিয়া জামে মসজিদের ঠিক বিপরীত দিকে কৃষি জমি নষ্ট করে কৃত্রিম রাস্তা তৈরী করে মাটি লুটপাট করছে অবৈধ ও দুষ্কৃতিকারী একটি চক্র। রাতের আঁধারে শত শত গাড়ী ঢুকে পড়ে এ হাওরে।এতে জনসাধারণের যাতায়াত ও চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের ঝৈনকারকান্দি, ইলাম ও টেখারবাড়ি হাওর অঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষিজীবী সম্প্রদায়কে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে কিছু সংখ্যক ব্যক্তির অন্যায়ভাবে মাটি কাটার কারণে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সত্য গ্রামের মোঃ আকিলের ছেলে মোঃ সালেহ আহমেদ, আব্দুস সাত্তারের ছেলে রাজিব, নজির আহমেদের ছেলে সাত্তার, মৃত শাহাবুদ্দীনের ছেলে সোনা মিয়া, আব্দুল মাজিদের ছেলে নুরুল হক, আব্দুল আহাদ, মাজপাড়া গ্রামের মৃত রুবু মিয়ার ছেলে জিয়া ও শিবের বাজারের খোকন অবৈধ ভাবে মাটি খনন করছেন। এতে হাওরের ভূমির স্থায়িত্ব, কৃষি উৎপাদন ও জলাবদ্ধতার ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল আহাদ চক্র প্রশাসনের যোগসাজশে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।বিগত ১৯ জানুয়ারি ঝৈনকারকান্দি এলাকার জনৈক বাসিন্দা অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি খনন দ্রুত বন্ধ করার জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্কেভেটর ব্যবহার করে হাওরের উর্বর মাটি অন্যায় ভাবে খনন করছেন। এতে বর্ষায় অত্র এলাকায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, হাওরসহ সংরক্ষিত এলাকায় কোনো ধরনের মাটি খনন দণ্ডনীয় অপরাধ।হাওরের মাটি শুধু কৃষির জন্যই নয়, গোটা ইকোসিস্টেমের জন্য প্রাণস্বরূপ। অবৈধ খননের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনিক সক্রিয়তা ও জনসচেতনতা জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করছেন এলাকার লোকজন।

এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াৎ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে আমি একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। এই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে এসিল্যান্ড ৪ বার মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু কাউকে সেখানে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।ইউএনও জানান,আমি নিজেও গিয়েছিলাম। কিন্তু মাটি কাটার কারণে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী থাকায় যথাস্থানে পৌঁছা যায়নি। এ ব্যাপারে থানায় একটি ভূমি সংরক্ষণ আইন এর আওতায় মামলাও করেছি।কোন ব্যক্তি যদি দুষ্কৃতিকারীদের নামসহ আমার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে আমি অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও পাওয়া যায় নি।

এসএমপি’র জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হারুনুর রশিদ কে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আলোকিত সিলেট / এসএস

শেয়ার করুন