শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ মে ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেদের বেলায় ছিলেন বেখবর

আপডেট টাইম : মে ২৩, ২০২২ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ



শেয়ার করুন

 

মামুন হোসাইন:(ক) হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহর পথে একটা সকাল এবং একটা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া ও এর যাবতীয় সম্পদ থেকে উত্তম।

(সহীহ বুখারী : ৪/২৭৯২)
(খ) হযরত আবদুর রহমান ইবনে জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহর পথে যে বান্দার দু’পা ধুলায় মলিন হয়, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে এমন হতে পারে না।
(সহীহ বুখারী : ৪/২৮১১)

উপশহর, সিলেট। এবারের বন্যায় সিলেট শহরের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক একটি অঞ্চল। বন্যার পানিতে টুইটুম্বুর। প্রত্যেক বিল্ডিঙয়ের গ্রাউন্ডফ্লোর বা ১ম তলা পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিদ্যুতের মিটার, ক্যাবল, গ্যাসের লাইন, রাইজার ও পানির মোটর পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু ব্লকে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃক বিদ্যুতের লাইন কেটে ফেলা হয়েছে। সাপ্লাইয়ের পানি বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাসের লাইন বন্ধ করা হয়েছে। এতো পরিমাণে পানি ছিল যে, জরুরী কাজে মানুষজন রীতিমত নৌকায় চলাফেরা করেছে। কিছু রোডে পুরো নিচতলা ডুবে গেছে। সাঁতার সমান পানি।

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক টিম দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। কোনদিন ৪/৫টি টিম কাজ করেছে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পন্যের অপর্যাপ্ততার কারণে কোনদিন সকাল ১১টা থেকেও কাজ শুরু করতে হয়েছে। কয়েকটি ভ্যান গাড়ীতে করে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পৌঁছে দিতে হয়েছে। মানুষের এতো পরিমাণে চাহিদা ছিল যা কোনো ভাবে তাঁর শতভাগ প্রয়োজন আমরা মেটাতে পারিনি।

স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজে, ড্রেনের কালো পানি, কর্দমা, ড্রেন-নালা সবকিছু ডিঙ্গিয়ে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেছেন। কোনদিন সকালে নাস্তা করেছেন আবার কোন দিন নাস্তা না করেই সারাদিন বন্যার্তদের সহযোগিতা। দুপুরের নাস্তা একসাথে করা হয়েছে প্রতিদিন। এক নাস্তায় মাগরিব পর্যন্ত চলেছে। ভেজা শরীরে টেপের পানিতে কোমর পর্যন্ত ধুয়ে সালাতুয যোহর, আসর ও মাগরিব আদায় করা হয়েছে।

কখনও ফোন কলে সাড়া দিতে হয়েছে সহযোগিতার জন্য। একটি রোড থেকে চলে আসলেও আবার পেছনে থেকে কোনো মহিলার ডাকে সাড়া দিতে হয়েছে। ঠেলা ঠেলতে হয়েছে সবসময়। হাতে করে, কাঁদে করে পানি পৌঁছে দিতে হয়েছে বাসা পর্যন্ত। কখনও ছাদের উপর পৌঁছে দিতে হয়েছে পানির কেইস। স্বেচ্ছাসেবকদের একই ব্লকে ও রোডে বাসা হওয়ার কারণে পরিচিতদের ডাকে সাড়া দিতে হয়েছে সবসময়।

আমার কাছে সবচেয়ে আবেগের বিষয় ছিল,
স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদিনের সেবা শেষে নিজেদের বাসায় পৌঁছার পর মনে হয়েছে তাঁদের বাসায় তো পানি নেই। সাথে সাথে আমাদেরকে এবিষয়ে জানালে নিজেদেরকে অপরাধীই মনে হয়েছে। পরক্ষণেই পানি থাকলে আমাদের থেকে নেয়ার জন্য বলে দিয়েছি আমরা। নতুবা কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেছি। আবার কখনও বলতে হয়েছে, আগামীকাল পাবেন (ইনশাআল্লাহ্‌)।
যারা সারাদিন ১৫০/২০০ কেইস পানি বিতরণ করলো দিন শেষে তারা নিজেদের বাসায় পানি নিয়ে যেতে পারে নি। এবিষয়টি খুবই কষ্টের ছিল।

প্রিয় মুজাহিদদের জন্য দোয়া করি,
হে পরওয়ারদেগার! তুমি তাঁদের সকল নেক আমল গুলো কবুল করো। দ্বীনের মুজাহিদ হিসেবে আমৃত্যূ একাজে সম্পৃক্ত থাকার তৌফিক দিও। যোগ্যতা, দক্ষতা, সাহস আর হিম্মত বাড়িয়ে দাও। ভাইদেরকে দ্বীনের জন্য সোচ্চার কণ্ঠস্বর হওয়ার তৌফিক দাও।
আমীন ছুম্মা আমীন

শেয়ার করুন