,

7 July 2026, 3:49 PM

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপডেট টাইম : July 7, 2026 3:49 PM



শেয়ার করুন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পালিত হয়েছে।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হই, সুস্থ থাকি,“পরিষ্কার পরিবেশ, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ” — আসুন, নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি।এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গত ১ জুলাই এটি পালিত হয়।

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ, তবে একটু সচেতনতা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় ইতোমধ্যেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি মাসের প্রথম কর্মদিবসে কার্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়, যাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

সিলেট জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন এর নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসারবৃন্দ, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

অভিযান চলাকালীন জেলা স্যানিটারি শেখর কান্তি পাল এবং কীটতত্ত্ববিদ নজরুল ইসলাম কার্যক্রমের তদারকি করেন। কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ, পার্শ্ববর্তী এলাকা, ড্রেন, ছাদ ও ভবনের আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, আবর্জনা পরিষ্কার এবং সম্ভাব্য ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। মূলত ডেঙ্গু রোগের উৎপত্তিস্থল হিসেবে ফুলের টব, ছাদের জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, বোতল, ডাবের খোসা, পানি সংরক্ষণের খোলা ড্রাম ও ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ এবং ড্রেন বা নালায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হয়।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বর্ষাকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এ রোগের প্রকোপ সাধারণত বেড়ে যায়। তাই ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গুর লক্ষণ হল হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা, ত্বকে লালচে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি, অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি। কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই মশার প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র, বাসস্থান ও সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন সিলেট জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু নিজের নয়, পরিবার, প্রতিবেশী এবং পুরো সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর।” অভিযান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

শেয়ার করুন